সীমান্তে বিএসএফের হত্যার প্রতিবাদে লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনারের সামনে ইআরআইয়ের মানববন্ধন

এ সময় বক্তারা বিএসএফ বাহিনীর হত্যা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার জন্য স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

মাহবুব আলী খানশূর, লন্ডন (যুক্তরাজ্য)
সীমান্তে বিএসএফের হত্যার প্রতিবাদে লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনারের সামনে মানববন্ধন করেছে ইআরআই
সীমান্তে বিএসএফের হত্যার প্রতিবাদে লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনারের সামনে মানববন্ধন করেছে ইআরআই |নয়া দিগন্ত

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশ সীমান্তে গুলি করে হত্যা এবং রাজশাহীতে পাঁচ বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে লন্ডনে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ইকুয়াল রাইটস ইন্টারন্যাশনাল (ইআরআই)।

এ সময় বক্তারা বিএসএফ বাহিনীর হত্যা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার জন্য স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

সোমবার (১ জুন) দুপুর ১টার দিকে ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্ক থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইআরআইয়ের নেতাকর্মীরা লন্ডনের ভারতীয় হাইকমিশনে সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন।

যৌথভাবে মানববন্ধনটি পরিচালনা করেন ইআরআইয়ের সহ-সভাপতি মো: ওসমান গনি ও মো: হাসনাত আল হাবিব। এতে সভাপতিত্ব করেন ইআরআইয়ের সভাপতি মো: মাহবুব আলী খানশূর।

মাহবুব খানশূর বলেন, ‘বছরের পর বছর বাংলাদেশ সীমান্তে নিরস্ত্র নাগরিকদের বিএসএফ গুলি করে হত্যা করছে বিএসএফ, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা চাই শুধু বিবৃতি নয়, কূটনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থান নিয়ে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। যাতে আর কোনো বাংলাদেশীকে সীমান্তে প্রাণ দিতে না হয়।’

ওই বিক্ষোভ-মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ডা: আফরোজা আক্তার, বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মো: রোকতা হাসান, ইনকিলাব মঞ্চ ইন্টারন্যাশনালের সভাপতি নিজাম উদ্দিন, স্ট্যান্ড ফর হিউম্যান রাইটসের জেনারেল সেক্রেটারি উজ্জ্বল আলম চৌধুরী,স্ট্যান্ড ফর হিউম্যান রাইটসের অফিস সেক্রেটারি সৈয়দ জুয়েল, ডব্লিউআরআইয়ের সভাপতি নাদিয়া ফাতেমা ও ইআরআইয়ের সেক্রেটারি জেনারেল নওশীন মুস্তারিয মিয়া সাহেব।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ইআরআইয়ের সহ-সভাপতি রুবেল আহমদ, জয়েন্ট সেক্রেটারি সৈয়দ আব্দুল আজিজ মিলাদ, জয়েন্ট সেক্রেটারি মো: ইউসুফ মিয়া, মাইনোরিটি সেক্রেটারি তাহমিনা আক্তার, ক্যাম্পেইন সেক্রেটারি কাকলি আক্তার, মাইনোরিটি রাইট সেক্রেটারি বাপ্পি রঞ্জন তালুকদার, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রেজাউল করিম রাব্বি, ডব্লিউআরআইয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি সাংবাদিক ফারিয়া আক্তার সুমি, ডব্লিউআরআইয়ের উইমেন রিসার্চ সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান, পাবলিসিটি সেক্রেটারি মায়েদা হুসাইন রাফা, উইমেন অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি আয়েশা আক্তার, এক্সিকিউটিভ মেম্বার আব্দুল হালিম, ইনকিলাব মঞ্চ ইন্টারন্যাশনালের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ প্রমুখ।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ইআরআইয়ের মাইনোরিটি রাইটস সেক্রেটারি আইন উদ্দিন, ক্যাম্পেইন সেক্রেটারি সোহরাব উদ্দিন রোমান, ইআরআইয়ের সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি মাহমুদ হোসাইন, জয়েন্ট সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম, জয়েন্ট সেক্রেটারি রাহাদুল ইসলাম, ইআরআইয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এ বি এম আকরাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মো: জাবেদ আহমেদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মো: সোহরাব আলী, মো: হানিফ আহমেদ, ক্যাম্পেইন সেক্রেটারি সায়েম আহমদ, মোহাম্মদ বদরুল ইসলাম, ক্যাম্পেইন সেক্রেটারি আবু জেহাদ, পাবলিসিটি সেক্রেটারি আব্দুল সালাম, পাবলিক রিলেশন সেক্রেটারি তরিকুল ইসলাম জিসান, ইআরআইয়ের সদস্য, আখতারুজ্জামান, শাহ মো: হাসান মাহমুদ, ডব্লিউআরআইয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সামির আহমেদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জান্নাত, এক্সিকিউটিভ মেম্বার জুয়েল আহমেদ মাহিন, এক্সিকিউটিভ মেম্বার রেখা আক্তার, জুয়েল আহমেদ প্রমুখ।

বক্তারা অভিযোগ করেন, বিএসএফ জানুয়ারি মাসেই দেশের বিভিন্ন সীমান্তে পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। কিছুদিন আগে তারা রাজশাহীতে বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধভাবে প্রবেশ করে পাঁচ বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে গিয়ে গেছে।

বক্তাদের দাবি, বিএসএফ নিষ্ঠুরতা অব্যাহত রাখলেও সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। উল্টো তারা ভারতের প্রশংসা করতে ব্যস্ত। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

তারা বলেন, এ দুই মন্ত্রী অবিলম্বে পদত্যাগ না করলে এবং সরকার জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ না নিলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।