জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থীদের হুমকি দেয়ার অভিযোগ ওঠা চৌধুরী মনিরুল হাসানকে নতুন দায়িত্বে পদায়ন করেছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো: এনামুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, অর্থ ও হিসাব দফতরের উপপরিচালক (হিসাব) চৌধুরী মনিরুল হাসানকে অর্থ ও হিসাব দফতরের পাশাপাশি ভাইস-চ্যান্সেলর দফতরে অতিরিক্ত দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে। আদেশটি ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।
গত জুলাই আন্দোলনের সাথে জড়িত শিক্ষার্থীদের হুমকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। জুলাই বিরোধী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মিছিলে তাকে সম্মুখ সারিতে দেখা যায়। মিছিলের শেষে বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘হাসিনা বলেছেন গণভবনের দ্বার খোলা আলোচনার জন্য। কিন্তু এই আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে যেসব শিক্ষার্থী আজ জুলাই আন্দোলনের সাথে জড়িত, তাদেরকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’
এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ গোবিপ্রবি শাখার ভিপি মোহাম্মদ হাবিব বলেন, ‘জুলাই বিরোধী চৌধুরী মনিরুল হাসান আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতৃত্বে ছিল। শিক্ষার্থীদের ৩ আগস্টের র্যালিতে হুমকি দিয়েছিল এবং মিছিলে সে নেতৃত্ব দিয়েছিল। সেটার প্রতিদান স্বরূপ বর্তমান ভিসি স্যার তাকে প্রমোশন দিয়ে ভিসির পিএস-এর মতো স্থানে আসীন করা বর্তমান ভিসির আদর্শের সাথেই সাংঘর্ষিক।’
তিনি আরো বলেন, ‘আর যদি ভিসি স্যার এটাকে ন্যায় মনে করেন তাহলে তিনিও হয়তো গুপ্ত জুলাই বিরোধী। বর্তমান প্রশাসনকে বলব, যারা জুলাই বিরোধী ছিল তাদের সংশোধন হতে দেন, সময় দেন; কিন্তু তাদেরকে সামনে এনে বড় পদ দেবেন—এগুলো কিন্তু আপনাদের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না।’
জুলাই বিরোধী চৌধুরী মনিরুল হাসানের পদায়ন সম্পর্কে ভিসি অধ্যাপক ড. সোহেল হাসান বলেন, ‘আমার কাছে শোনার থেকে আমার জনসংযোগ দফতর থেকে জেনে নিতে পারেন। আর আমার এ বিষয়ে তেমন কিছু বলার নেই। এখানে যারা আছে তাদের অধিকাংশই একই রকমের। আমার একজন অভিজ্ঞ লোক দরকার দফতর চালানোর জন্য, তাই আর কি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কারণ আমার তো দফতরের কাজ পরিচালনা করা লাগবে, সেদিকেই লক্ষ্য রেখে নিয়োগ দেয়া।’



