সরকারি চাকরির নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা ছাত্রশিবির।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে মিছিলটি বের হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, ‘সরকার সকল জায়গায় দলীয়করণের জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ভাইভায় অস্বাভাবিক হারে নম্বর বৃদ্ধি করেছে। তারা এই নম্বর বৃদ্ধির মাধ্যমে সকল চাকরিতে তাদের দলীয় কোটায় নিয়োগ দিতে চায়। তারা চায়, এভাবে চাকরির লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটাকে একটি সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে। আমরা যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখতে পেয়েছি। গত ৫ তারিখে এলাকার স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসীকে চাকরির লোভ দেখিয়ে সন্ত্রাসবাদ কায়েমের চেষ্টা করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘তারা সন্ত্রাসীদের চাকরি দিয়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তে, ক্যাম্পাসগুলোতে সন্ত্রাসবাদ কায়েম করতে চায়। তাদের এই দুরভিসন্ধি আমরা সফল হতে দেব না। চাকরির পরীক্ষায় ভাইভায় নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। এছাড়া আরো যত অনিয়ম আছে, সকল অনিয়ম বন্ধ করতে হবে। ১০০ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যকর করতে হবে ও স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গত ৫ সেপ্টেম্বর অস্ত্র হাতে ক্যাম্পাসে আসা সন্ত্রাসীদের অতি দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। যদি তা না হয়, তাহলে পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনকে দায় নিতে হবে।’
এদিকে, বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে ‘ভাইভা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘দিকেদিকে খবর দে, ভাইভা কোটার কবর দে’, ‘কোটা গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সেই পথে’, ‘বেশি মার্ক ভাইভায়, চাকরি হবে পয়সায়’-সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় সংগঠনটির নেতাকর্মীদের।
এ সময় শাখা শিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, দফতর সম্পাদক হাফেজ আব্দুস সামাদ, অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক এমাদুর রহমান, ছাত্র অধিকার সম্পাদক নাহিদ হাসান, স্কুল কার্যক্রম সম্পাদক জায়েদ হাসান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত ও সমাজসেবা সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের অনুপাত পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ১১ থেকে ১২ গ্রেডে লিখিত ৫০ ও মৌখিক ৫০, ১৩ থেকে ১৬ গ্রেডে লিখিত ৬০ ও মৌখিক ৪০ এবং ১৭ থেকে ২০ গ্রেডে লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় ২৫ করে নম্বর রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সাথে লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বরও কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিষয়ে সচিব কমিটির বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে ও প্রজ্ঞাপনের খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হবে না।



