রাবির মার্কেটিং বিভাগ

র‌্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের ওপর হামলা

হামলায় নেতৃত্ব দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হিমেল, সামি (২০২৪-২৫), ওমি (২০২২-২৩), আহমেদ রিয়াদ (২০২২-২৩), জিহাদ (২০১৯-২০), সামির (২০২৩-২৪) ও আতিকসহ (২০১৯-২০) কয়েকজন।

Location :

Rajshahi
সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী শিক্ষার্থীরা
সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী শিক্ষার্থীরা |নয়া দিগন্ত

রাবি প্রতিনিধি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে র‌্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে তিন সাংবাদিক ও দুই রাকসু নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। প্রক্টর ও বিভাগের সভাপতির উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীরা হলেন রাবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মারুফ হোসেন মিশন, ঢাকা পোস্টের প্রতিনিধি জুবায়ের জিসান, দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি আবু বকর অনিক, রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির এবং বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর।

হামলায় নেতৃত্ব দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হিমেল, সামি (২০২৪-২৫), ওমি (২০২২-২৩), আহমেদ রিয়াদ (২০২২-২৩), জিহাদ (২০১৯-২০), সামির (২০২৩-২৪) ও আতিকসহ (২০১৯-২০) কয়েকজন।

RU-19=6=====

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিভাগের কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন যে, সিনিয়ররা তাদের ‘মিট-আপ’-এর নামে দীর্ঘ সময় দাঁড় করিয়ে রেখে র‌্যাগিং করছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে সাংবাদিকরা এবং এক সহকারী প্রক্টর ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করলে উপস্থিত সিনিয়র শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানান এবং ভিডিও মুছে ফেলার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভিডিও মুছে ফেলতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের সাথে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সাংবাদিকদের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি শান্ত করতে যাওয়া দুই রাকসু নেতার ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন আহত হন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম বোরাক আলীসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে প্রক্টর অফিসে যাওয়ার সময় আবারো হামলার ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মারুফ হোসেন মিশন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিনি ভিডিও ধারণ করেছিলেন। ভিডিও মুছে ফেলতে চাপ দেয়া হয় এবং রাজি না হওয়ায় তাকে ও অন্যদের মারধর করা হয়। তিনি ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হিমেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সেখানে শুধুমাত্র কথা-কাটাকাটি হয়েছে, কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।

অন্যদিকে একই বিভাগের এক শিক্ষার্থী মাহির মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করলেও নিজে এতে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর বলেন, হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে গেলে তিনিও আঘাতের শিকার হন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম বোরাক আলী এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলার আহ্বান জানান।

সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক জহুরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউকে মারধরের অধিকার কারো নেই। এ ধরনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক ও নিন্দনীয়’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তার সামনেই সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করবে।

র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ প্রসাথে প্রক্টর বলেন, ঘটনাস্থলে যে পরিস্থিতি দেখা গেছে, তাতে র‌্যাগিংয়ের বিভিন্ন লক্ষণ বিদ্যমান ছিল। তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে।