জাবির বাসে নারী শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছনার অভিযোগ : সাময়িক বহিষ্কার ১

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বঙ্গবাজারগামী একটি বাসে এ ঘটনা ঘটে।

আতাউর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক |ফাইল ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করার অভিযোগে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ ২০২০-২১) শিক্ষার্থী মো: হাসানুর রহমানকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব সলিমুল্লাহ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বঙ্গবাজারগামী একটি বাসে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর বাসটি ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনা হয় এবং অভিযুক্তকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় হস্তান্তর করা হয়। পরে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক ও শামীমা নাসরিন জলি তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

অফিস আদেশে বলা হয়, একজন নারী শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮-এর ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী হাসানুর রহমানকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারকালীন সময়ে তিনি ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলে অবস্থান করতে পারবেন না।

একই আদেশে আরো উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগীর পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাভার থানায় মামলা করবে। পাশাপাশি অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়গামী বাসে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অজান্তে তার কয়েকটি ছবি তোলেন হাসানুর রহমান। বিষয়টি অন্য এক শিক্ষার্থীর নজরে এলে ভুক্তভোগী তার মোবাইল ফোনটি নিজের হেফাজতে নেন। এ সময় অভিযুক্ত ছবি তোলার বিষয়টি অস্বীকার করে ফোনটি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে ওই নারী শিক্ষার্থী পড়ে গিয়ে আহত হন।

অভিযোগে আরো বলা হয়, পরে অভিযুক্ত জোরপূর্বক মোবাইল ফোনটি নিয়ে বাস থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে অন্য শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনেন এবং প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে সোপর্দ করেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে অভিযুক্ত লিখিত জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা এবং ধস্তাধস্তির সময় নারী শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আমরা নিরাপত্তা অফিসে যাই এবং ভুক্তভোগীসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসাথে তার বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের হয়রানি বা নারী শিক্ষার্থীর প্রতি অসদাচরণের ঘটনায় প্রশাসন শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দফতরসমূহকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।