শিক্ষা ব্যবস্থার সকল স্তরে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগের সভাপতি ও জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মগবাজারে বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষক পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। মাধ্যমিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মনজুরুল হকের সভাপতিত্বে সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম সরকারের সঞ্চালনায় ওই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য অধ্যাপক এ বি এম ফজলুল করিম, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের (বাআশিফে) সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক রবিউল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সকল স্তরে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা আজকের সময়ের অত্যন্ত জরুরি একটি দাবি। নগদ প্রাপ্তি বা দুনিয়াবি মোহের ঊর্ধ্বে উঠে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে আমাদের শিক্ষকতা ও কর্মজীবন পরিচালনা করতে হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা না করে, সঠিক পরিকল্পনা ও টার্গেট নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সততা এবং দেশপ্রেমের বীজ বপন করতে হবে।
তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষার সকল স্তরে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা দেয়া আবশ্যক করার উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করতে সমাজকল্যাণমূলক নির্দেশনা ও নৈতিক মানদণ্ডকে সামনে রেখে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। একইসাথে পার্শ্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন এবং শিক্ষক সমাবেশ, অভিভাবক সম্মেলন ও সুধী সমাজকে নিয়ে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সকল প্রকার অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম করে জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দানে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়া, পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে অমুসলিম শিক্ষার্থীদের মাঝেও ক্লাসরুমে নৈতিক মূল্যবোধ ও আদর্শের বার্তা পৌঁছে দেয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক এ বি এম ফজলুল করিম বলেন, শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আমাদেরকে আরো সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘বার্গেনিং অ্যাজেন্ট’ হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। নয়টি শিক্ষক সংগঠনের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে সকল স্তরের কমিটি পুনর্গঠন করে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজিয়ে কারিকুলামের প্রতিটি স্তরে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
তিনি বলেন , নির্যাতিত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছ ও ন্যায্য নিয়োগ ও পেশাগত-নৈতিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। আজকের ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত শিক্ষকসমাজই পারে আগামী দিনের মর্যাদাপূর্ণ, নৈতিক ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক রবিউল ইসলাম বলেন, শিক্ষকদের যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ে ব্যক্তিগত ভেদাভেদ ভুলে সকলকে এক প্ল্যাটফর্মে আসতে হবে। অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ শক্তির মাধ্যমেই কেবল কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করা সম্ভব। তাই আসুন, নিজেদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় অটুট ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে কার্যকর ও জোরালো ভূমিকা পালন করি।
কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ ড. শফিকুল আলম হেলাল, অধ্যক্ষ একরামুল হক ভূঁইয়া, অধ্যক্ষ গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।



