ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা ‘প্রকাশ’-এর দ্বিতীয় সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ডাকসুর সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পত্রিকাটির সম্পাদক এবং ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস এম ফরহাদ বলেন, একটি সমাজের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার প্রতিচ্ছবি সাহিত্যের মধ্য দিয়েই দীর্ঘকাল ধরে সংরক্ষিত থাকে। কোনো নির্দিষ্ট সময়ের সমাজ, মানুষের জীবনযাপন, চিন্তা ও সংস্কৃতিকে বুঝতে হলে সেই সময়ের গল্প, কবিতা, উপন্যাস ও স্মৃতিচারণের কাছে ফিরে যেতে হয়।
তিনি বলেন, ‘ডাকসুর উদ্যোগে অন্তত ২০টি ম্যাগাজিন প্রকাশের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। এরই মধ্যে আজকেরটি আমাদের পঞ্চম প্রকাশনা অনুষ্ঠান। এর আগে বিভিন্ন সাময়িকী ও নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে।’
ডাকসুর প্রথম নিয়মিত সাহিত্য পত্রিকার নাম ছিল ‘আভাস’। ‘প্রকাশ’ সেই ধারাবাহিকতায় নিয়মিত সাহিত্য পত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের সংখ্যায় স্মৃতিলেখা, গল্প, কবিতা ও বই পর্যালোচনাসহ বিভিন্ন ধরনের লেখা স্থান পেয়েছে।
তিনি আরো বলেন, একটি সমাজের বিকাশ, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের চিন্তা ও আচরণকে অনুধাবনের যেসব সাহিত্যিক মাধ্যম রয়েছে, সেগুলোকে পত্রিকাটিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং ‘প্রকাশ’-এর সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সাহিত্যকে সমাজের সব শ্রেণি ও মানুষের চিন্তা, বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতাকে ধারণ করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাহিত্যিক ঐতিহ্য সমৃদ্ধ ও দীর্ঘদিনের। আলাওল থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রাচীন সাহিত্যকর্ম এ অঞ্চলের সাহিত্যিক ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করে। পুঁথি ও প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণেও এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, সাহিত্য বিকাশে প্রণোদনা ও পৃষ্ঠপোষকতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সাহিত্যকে সমাজের মানুষের কণ্ঠস্বর ও সমাজের দর্পণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে পৃষ্ঠপোষকতার পরিসর আরো বিস্তৃত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, প্রকাশনা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে লেখকরা যাতে তাদের প্রাপ্য রয়্যালটি যথাযথভাবে পান, তা নিশ্চিত করতে সরকারের ভূমিকা প্রয়োজন। এতে নতুন লেখক ও সাহিত্যিক তৈরির পথ সুগম হবে।
সাহিত্য পত্রিকাটির সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন সাবিকুন্নাহার তামান্না, আফসানা আক্তার, খন্দকার নুর হোসাইন, রিয়াদুল ইসলাম যুবা, রিজওয়ান য্যুবরান মানসুরী, সায়মুম ফেরদৌস, আসফাকউল্লাহ আসিফ ও সুহাইল মাহদিন।
রিয়াদুল ইসলাম যুবার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন (খান জসিম), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইকবাল হায়দার, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে ছালমাসহ ডাকসু ও হল সংসদের নেতারা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।



