হাবিপ্রবিতে ২ হলের সংঘর্ষের ঘটনায় আজীবন বহিষ্কার ৬ শিক্ষার্থী

২১ মে আড়াইটার দিকে শহীদ আবরার ফাহাদ হল থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি হাতে শহীদ নুর হোসেন হলে গিয়ে সহকারী প্রক্টর ও ছাত্রদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

রাফিউল হুদা, হাবিপ্রবি
হলে হামলার দৃশ্য, (ডানে) ক্যাম্পাসে পুলিশি পাহারা
হলে হামলার দৃশ্য, (ডানে) ক্যাম্পাসে পুলিশি পাহারা |নয়া দিগন্ত

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি হাতে শহীদ নুর হোসেন হলে গিয়ে সহকারী প্রক্টর মো: মবিনুল ইসলাম ও ছাত্রদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনায় ৬৬ শিক্ষার্থীকে চার ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার (১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো: আবু হাসান স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, ২১ মে আড়াইটার দিকে শহীদ আবরার ফাহাদ হল থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি হাতে শহীদ নুর হোসেন হলে গিয়ে সহকারী প্রক্টর ও ছাত্রদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ২২ মে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৭তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৬৬ জন ছাত্রকে চার ধরনের শাস্তির আওতায় আনার সুপারিশ করা হলো।

অফিস আদেশে কেন স্থায়ী শাস্তি প্রদান করা হবে না মর্মে ১০ কার্যদিবস সময় দিয়ে শাস্তির আওতায় আসা শিক্ষার্থীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়েছে।

চার ধরনের শাস্তির মধ্যে উশৃঙ্খল আচরণের জন্য আট শিক্ষার্থীকে হল থেকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার ও লিখিত সর্তকীকরণ এবং দুই হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা; হাতে অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য ছয় শিক্ষার্থীকে এক সেমিস্টারের জন্য অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার ও হল থেকে বহিষ্কার এবং পাঁচ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা; অস্ত্র হাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাঙচুরের জন্য ৪৬ শিক্ষার্থীকে দুই সেমিস্টার অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার ও হল থেকে বহিষ্কার এবং ১০ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা এবং সর্বশেষ কর্তব্য পালনরত অবস্থায় সহকারী প্রক্টর মো: মবিনুল ইসলামের ওপর আক্রমণের জন্য ছয় শিক্ষার্থীকে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

আজীবন অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কৃত ছয় শিক্ষার্থী হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং ও অর্থনীতি বিভাগের ২২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো: নাইমুর রহমান দূর্জয় ও সাকির মাহমুদ, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৩তম ব্যাচের মো: সৌরভ আহমেদ, ফুড অ্যান্ড প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং ও অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ২২তম ব্যাচের মো: আসাদুজ্জামান সাগর ও তাসরিয়াফ ইসলাম প্রান্তিক এবং ইংরেজি বিভাগের ২৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আসিফ হোসেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নওশের ওয়ান বলেন, ‘তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে এ শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখা হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তার শাস্তি বাতিল বলে গণ্য হবে।’