জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া ২১তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জবি শাখার উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী নবীনবরণ অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তন প্রতিটি সেশনেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
রোববার (২৮ জুন) শুরু হওয়া এ আয়োজন মঙ্গলবার (৩০ জুন) শেষ হয়।
প্রথম দিনে কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, দ্বিতীয় দিনে ব্যবসায় শিক্ষা ও চারুকলা অনুষদ এবং তৃতীয় দিনে বিজ্ঞান অনুষদের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করা হয়। পূর্বনির্ধারিত গুগল ফর্মের মাধ্যমে নিবন্ধন করে শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো: রইছ উদ্দীন।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য নয়; বরং নিজেকে সৎ, দক্ষ ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ সময়। তিনি জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি ইসলামী আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ, সত্য ও ন্যায়ের চর্চার মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।
প্রধান আলোচক হিসেবে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো: নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘শুধু স্লোগান, মিছিল-মিটিং বা আনন্দ-উৎসবের মাধ্যমে একটি জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার সমন্বয়ের মাধ্যমেই একটি জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে।’
দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।
তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও নৈতিক মূল্যবোধ অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে নিজেদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের মেধা কাজে লাগানো উচিত।
এদিন প্যানেল আলোচনায় ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: বিলাল হোসাইন শিক্ষার্থীদের সততা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ধারণ করে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সমাপনী দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মো: ইলিয়াস মোল্লা। তিনি বলেন, কঠোর প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের এখন যোগ্য ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে দেশ ও মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।
প্যানেল আলোচনায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদক মো: ফখরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি উন্মুক্ত পরিসর, যেখানে প্রত্যেকে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে নেয়ার সুযোগ পায়। ছাত্রশিবির চায় শিক্ষার্থীরা সৎ, যোগ্য ও আদর্শবান নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে দেশের সম্পদে পরিণত হোক।
অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া ইংরেজি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী সাজিদ বলেন, আয়োজনটা অনেক চমৎকার এবং ইউনিক হয়েছে। এ আয়োজনের মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো একত্রিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে ব্যাগ, কলম, কুরআন শরিফসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বক্তাদের ক্যারিয়ারবিষয়ক দিকনির্দেশনা ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও জাকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিলের সঞ্চালনায় বিভিন্ন শিক্ষক, অতিথি, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিপুলসংখ্যক নবীন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।



