প্রক্টর কার্যালয়ে এক সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দিনভর হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে রাকসু কার্যালয়ে হামলায় রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আহত হন।
এরপর ধাওয়া দিয়ে এক সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের এক ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দেয় রাকসুর নেতা-কর্মীরা।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় রাকসু ভবন ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
রাকসু নেতৃবৃন্দদের সূত্রে জানা যায়, নারীঘটিত একটি বিষয় নিয়ে রোববার (২৬ জুলাই) রাতে এক সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: মাহবুবুর রহমানের সাথে দেখা করতে যান। এ সময় প্রক্টরের সাথে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তার মোবাইলফোনে ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য পাওয়ার দাবি তুলে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে শনাক্ত করেন। এরপর সেখানে রাকসু জিএস আম্মারসহ কয়েকজনের সাথে সেই ছাত্রলীগ নেতার হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
এরপর আজ দুপুরে ওই সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে রাকসু কার্যালয়ে গিয়ে হামলা চালান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারসহ তিনজন। হামলায় রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব আহত হন।
এ ঘটনার পর রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা অভিযুক্তদের ধাওয়া করলে সংঘর্ষ কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে আহত এক সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় সেখান থেকে নামিয়ে আবারো মারধর করা হয়।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা রাকসুর নেতা-কর্মীরা অভিযুক্তদের এক ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দেন। এ সময় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেয়।
এ বিষয়ে রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব বলেন, ‘প্রক্টর অফিস থেকে যাবার পরে খুব বেশি দেরি করেনি ওরা। চার-পাঁচ মিনিটের মধ্যে তারা রাকসু ভবনে আসে। ওদের মধ্যে থেকে একজন আম্মারকে জিজ্ঞেস করে, তুই ওর গায়ে হাত দিছিস কেন? তখন আম্মার বলে, আপনি কী কোনো অথোরিটি নাকি যে আপনার কাছে প্রশ্নের জবাব দিতে হবে? এ কথা বলার সাথে সাথে ওরা আম্মারের ওপর হামলা করে এবং আমি ওদেরকে ফেরাতে গিয়ে ওরা আমার ওপর হামলা করে রক্তাক্ত করে। ছাত্রলীগের আনাস ও তার সাথে সাত-আটজন সাঙ্গপাঙ্গ মিলে এ ঘটনা ঘটায়।’
রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘তারা ছয়-সাতজন হঠাৎ করেই কোনো ধরনের কথা না বলে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তখন রাকসু কার্যালয়ের ভেতরে আমরা মাত্র তিনজন ছিলাম। হামলায় আমাদের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক গুরুতর আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



