সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ইকোসিস্টেম থিংকিং অ্যান্ড রিসোর্স ডাইনামিকস (ইটিআরডি) ল্যাবের উদ্যোগে মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের কোস্টোল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ (সিএমএফ ১২১) কোর্সের আওতায় ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের লেভেল-১ এর ৯৬ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ‘উপকূলীয় ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে প্রাকৃতিক মূলধনের মূল্যায়ন’ শীর্ষক পোস্টার প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন গবেষণা প্রস্তাবনার ওপর মোট ১৯টি পোস্টার উপস্থাপন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টায় মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের সঞ্চালনা করেন কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: মোশাররফ হোসেন।
অনুষ্ঠানে মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: শহিদুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রোগ্রামের শুভ সূচনা করেন।
প্রতিযোগিতায় ১৯টি গবেষণা প্রস্তাবনাকে দুটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে শিক্ষার্থীরা পোস্টার আকারে উপস্থাপন করেন। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: মোস্তফা শামসুজ্জামান, সহকারী অধ্যাপক অনুরাধা তালুকদার এবং সহকারী অধ্যাপক মাফিয়া আক্তার।
আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই পোস্টার প্রেজেন্টেশন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে অনেক ক্ষেত্রে এমন কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজন করা হয় না। কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এ আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’
ভবিষ্যতে আরো বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আরো সম্পৃক্ত করা ও উন্নত মানের গবেষণা পেপারে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
পোস্টার প্রেজেন্টেশনকে গুরুত্ব দিয়ে প্রধান বিচারক অধ্যাপক ড. মো: মোস্তফা শামসুজ্জামান বলেন, ‘প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার এমন উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। অনেক শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করার পরও গবেষণার শিরোনাম, উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি প্রণয়নের মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে দক্ষ হয়ে উঠতে পারে না। এই ধরনের পোস্টার প্রেজেন্টেশন শিক্ষার্থীদের গবেষণায় হাতেখড়ির পাশাপাশি ভবিষ্যতে ভালো গবেষণায় অংশ নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও আয়োজক অধ্যাপক ড. মো: মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী একজন স্নাতকের ২১টি বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা অর্জনের কথা থাকলেও বাস্তবে তার ঘাটতি দেখা যায়। এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের গবেষণা দক্ষতা, যোগাযোগ সক্ষমতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা বিকাশে উৎসাহিত করা। পাশাপাশি একটি গবেষণার যে মৌলিক কাঠামো (বেসিক স্ট্রাকচার) যেমন সূচনা, সারসংক্ষেপ, উদ্দেশ্য (অবজেকটিভস), ফলাফল ও আলোচনা (রেজাল্টস অ্যান্ড ডিসকাশন) শিক্ষার্থীরা এর মাধ্যমে শিখতে সক্ষম হয়েছে। আমি মনে করি এযাবৎকালে একসাথে বিভিন্ন গবেষণার ওপর ১৯টি পোস্টার প্রেজেন্টেশন এর আগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে হয় না।’
প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে দুই ক্যাটাগরিতে উপস্থাপিত ১৯টি পোস্টারের মধ্য থেকে সেরা ছয়টি দলকে পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. পার্থ প্রতিম বর্মন, ফিশ বায়োলজি ও জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: মাহবুব ইকবাল, অ্যাগ্রিকালচারাল ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শাহ আলমগীর, ক্রপ বোটানি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসুদুর রহমান, অ্যান্টোমলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: ফুয়াদ মন্ডলসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, গবেষক ও শতাধিক শিক্ষার্থী।



