মিরপুরে তানযীমুল উম্মাহ মাদরাসায় বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাশেম আরমান বলেন, আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে গড়ে তুলতে তানযীমুল উম্মাহ মাদরাসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগামী দিনের বিশ্ব হবে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর। তাই শিক্ষার্থীদের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ হতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুরে তানযীমুল উম্মাহ মাদরাসা বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মিরপুর-২-এর মিরপুর কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেধা, অধ্যবসায়, সৃজনশীলতা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে কৃতিত্বের জন্য শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়।

অনুষ্ঠানে বছরজুড়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড তুলে দেয়া হয়। পাশাপাশি বার্ষিক সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া অন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে তাদেরও শুভেচ্ছা পুরস্কার দেয়া হয়।

পুরস্কার বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে কবিতা আবৃত্তি, হামদ, নাত, নজরুলসংগীত, দেশের গান, জুলাইয়ের গান, কেরাত এবং আরবি, ইংরেজি ও বাংলা বক্তৃতা পরিবেশন করা হয়। শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশনা অতিথি, অভিভাবক ও দর্শকদের মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাশেম আরমান বলেন, আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে গড়ে তুলতে তানযীমুল উম্মাহ মাদরাসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগামী দিনের বিশ্ব হবে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর। তাই শিক্ষার্থীদের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন, তানযীমুল উম্মাহ মাদরাসা শিক্ষার গুণগত মান বজায় রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়ার উপযোগী হয়ে উঠতে শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, সততা ও সাহসিকতার সাথে পড়াশোনা করতে হবে।

ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাশেম আরমান আরো বলেন, সন্তানদের শুধু একটি নির্দিষ্ট ধারার শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে দ্বীনি ও আধুনিক জ্ঞানের সমন্বয়ে শিক্ষিত করতে হবে। এতে তারা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের জন্য দক্ষ, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। পাশাপাশি বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ শেখানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রধান আলোচক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং আরবি ও ইসলামি শিক্ষার সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল জলিল (বিসিএস শিক্ষা) বলেন, বাংলাদেশের বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনেকেই শুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াত করতে পারেন না। এ বাস্তবতায় আধুনিক ও মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে তানযীমুল উম্মাহ মাদরাসা কাজ করছে।

তিনি বলেন, দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে। এ ধরনের সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা পালনে সক্ষম করবে।

বিশেষ অতিথি বাউনিয়াবাদ আলিম মাদরাসা, পল্লবী, ঢাকার প্রিন্সিপাল মাওলানা রুহুল আমীন বলেন, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার একটি মাইলফলক হিসেবে তানযীমুল উম্মাহ মাদরাসা গড়ে উঠছে। তিনি প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সাফল্য ও মঙ্গল কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মনিরুল ইসলাম মৃধা উপস্থিত ছিলেন। তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও নিবিড় তত্ত্বাবধান প্রয়োজন। শিক্ষাজীবনে সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের সক্রিয় মনোযোগ তাদের সাফল্যের পথকে আরও সুগম করে।

এ সময় তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর সাইয়েদুর রহমান এবং মাদরাসার বিভিন্ন শাখার প্রধানদের মধ্যে প্রিন্সিপাল আলাউদ্দিন আযাদ, শাখা প্রধান হাফেজ দিদারুল আলম, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. শরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন তানযীমুল উম্মাহ মাদরাসা, মিরপুরের প্রিন্সিপাল মুহাম্মদ আলাউদ্দিন আযাদ। সভাপতিত্ব করেন তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ডিরেক্টর আ.ন.ম রাশেদুল ইসলাম সায়েম।

বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও নৈতিক বিকাশে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের অর্জনের স্বীকৃতি তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগায়। তারা পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং অন্য শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনা, হিফজ, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে আরো মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অতিথিরা বিজয়ী ও কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন।