জবিতে অস্থায়ী আবাসন ও বৃত্তির বকেয়া টাকা হস্তান্তরের দাবিতে জকসুর মানববন্ধন

‘গত বছরের মে মাসে আন্দোলন ও লাঠিচার্জের প্রেক্ষাপটে আবাসন বৃত্তির জন্য ৫৬ কোটি টাকা বাজেট পাস হয়। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই বকেয়া টাকা শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও দফতরগুলোর দুর্বলতা ও অপারগতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।’

নুর আলম, জবি সংবাদদাতা
অস্থায়ী আবাসন ও বৃত্তির বকেয়া টাকা হস্তান্তরের দাবিতে জকসুর মানববন্ধন
অস্থায়ী আবাসন ও বৃত্তির বকেয়া টাকা হস্তান্তরের দাবিতে জকসুর মানববন্ধন |নয়া দিগন্ত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের আবাসন সঙ্কট নিরসনে কেরানীগঞ্জের সাত একর জমিতে ২০২৬ সালের মধ্যে এক হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা এবং বিশেষ বৃত্তির বকেয়া টাকা দ্রুত শিক্ষার্থীদের মধ্যে হস্তান্তরের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জকসুর বিভিন্ন নেতারা বক্তব্য দেন। তারা দ্রুত অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ, বকেয়া বৃত্তির টাকা হস্তান্তর এবং আবাসন সঙ্কট নিরসনে প্রশাসনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দেয়ার দাবি জানান।

মানববন্ধনে জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অধিকার ও আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে প্রশাসন ব্যর্থ হলে শিক্ষার্থীরা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। এছাড়া আবাসন বৃত্তির ৫৬ কোটি টাকার মধ্যে বাকি ৪৬ কোটি টাকা অনতিবিলম্বে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুলে দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল প্রশাসনের কাছে অস্থায়ী আবাসন নির্মাণে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি চান, তাহলে আমাদের দাবিগুলো পূরণ করা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের এই মৌলিক দাবিগুলো নিয়ে আমরা যখন আন্দোলন করেছি, তখন আমাদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। তারা হয়তো জানে না, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা যায়, কিন্তু তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন থামানো যায় না।’

তিনি আরো বলেন, ‘চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে টাকা পাওয়ার পর প্রশাসন চাইলে তিন-চার মাসের মধ্যেই অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ করতে পারত। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দেয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আপনি যদি এই কাজ না করেন, তাহলে একজন ব্যর্থ ভিসি হিসেবে বিবেচিত হবেন।’

জকসুর এজিএস মাসুদ রানা বলেন, ‘২০২৪ সালে আমরা যখন আন্দোলন করেছিলাম, তখন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার সিদ্ধান্তের পর আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম যে, আমাদের সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু এই প্রশাসনের অদক্ষতা, অকার্যকারিতা ও নানা ধরনের গড়িমসির কারণে আজ আবার আমাদের এখানে দাঁড়াতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির পরিবর্তে শুধু টেন্ডারবাজি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়কে গুরুত্ব দেয়ার অভিযোগেই আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আপনি কত টাকা দিয়ে ভিসি হয়েছেন কিংবা কার কাছে টেন্ডার দেবেন এসব আমরা দেখতে চাই না। শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার চায়। সেই অধিকার নিশ্চিত না হলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলবে।’

জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, ‘গত বছরের মে মাসে আন্দোলন ও লাঠিচার্জের প্রেক্ষাপটে আবাসন বৃত্তির জন্য ৫৬ কোটি টাকা বাজেট পাস হয়। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই বকেয়া টাকা শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও দফতরগুলোর দুর্বলতা ও অপারগতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।’

মানববন্ধন থেকে জকসুর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ, আবাসন বৃত্তির বাকি ৪৬ কোটি টাকা অনতিবিলম্বে হস্তান্তর এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানানো হয়। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান জকসুর নেতারা।