প্রকাশ্যে নকল : কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্র বাতিলসহ বাউবি’র কঠোর ব্যবস্থা

এছাড়া ঘটনার তদন্তে প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মোহাম্মদ আলী ঝিলন, গাজীপুর

পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রকাশ্যে নকলের অভিযোগে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্র বাতিল, কক্ষ পরিদর্শক দুই সহকারী অধ্যাপককে পরীক্ষা-২০২৫-এর সকল কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য অব্যাহতি প্রদানসহ জড়িত সাত শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)।

এছাড়া ঘটনার তদন্তে প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাউবি’র তথ্য ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো: খালেকুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) পরিচালিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা-২০২৫-এর ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে প্রকাশ্যে নকলের অভিযোগ ওঠে। এ সংক্রান্ত সংবাদ গত ২৮ ও ২৯ আগস্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সর্বদা নকলমুক্ত, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে অঙ্গীকারাবদ্ধ। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কক্ষ পরিদর্শকদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে অনভিপ্রেত এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকটি কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

সিদ্ধান্ত অনুসারে, কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্র বাতিল করে বাতিলকৃত কেন্দ্রের পরিবর্তে গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজ, মেহেরপুরকে নতুন পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে সাতজন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এছাড়া, গত ২৮ আগস্ট কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী অধ্যাপক মো: হাবিবুর রহমান ও মো: রফিক-উজ-জামান দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং নকল প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা-২০২৫-এর সকল কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, “বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় নকল বা পরীক্ষায় কোনো ধরনের অসদুপায়ের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। একটি সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার কোনো চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী, কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও কক্ষ পরিদর্শকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন ভিসি।

কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও প্রহারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বাউবির ভিসি। তিনি এ ঘটনায় আহত সাংবাদিকদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।