দেশে দুধ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও এখনো জাতীয় চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়ে গেছে। বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ১৫ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন টন দুধ উৎপাদিত হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজন প্রায় ১৬ দশমিক ২৩ মিলিয়ন টন। ফলে দেশের দুগ্ধ খাতে এখনো প্রায় ছয় লাখ ৯০ হাজার টনের ঘাটতি রয়েছে।
এছাড়া দেশে বর্তমানে মাথাপিছু দৈনিক দুধের প্রাপ্যতা প্রায় ২৩৯ মিলিলিটার, যেখানে একজন মানুষের জন্য প্রয়োজন ২৫০ মিলিলিটার। নারীদের ক্ষেত্রে দৈনিক দুধের চাহিদা আরো বেশি, প্রায় ৫০০ মিলিলিটার। এ অবস্থায় দেশীয় দুধ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বাড়ানোর পাশাপাশি দুধের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশুপালন অনুষদের গ্রন্থাগারে দুগ্ধ দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ১০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্দশবারের মতো পালিত হবে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস-২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আটটি বিদ্যালয়ের প্রায় আড়াই হাজার শিশুকে দুধ পান করানো হবে।
ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ১৫ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন টন দুধ উৎপাদিত হচ্ছে। তবে জাতীয় চাহিদা পূরণে প্রয়োজন প্রায় ১৬ দশমিক ২৩ মিলিয়ন টন। মাথাপিছু দৈনিক দুধের প্রাপ্যতা বর্তমানে ২৩৯ মিলিলিটার হলেও প্রয়োজন ২৫০ মিলিলিটার। তাই দেশের তরল দুধের ঘাটতি পূরণে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’
বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রায়হান হাবিব বলেন, ‘নারীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে দুধের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বিশেষ করে মাতৃত্বকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সময়ে ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি পূরণে নিয়মিত দুধ পান প্রয়োজন। এ কারণে এ বছরের বিশ্ব দুগ্ধ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘দুগ্ধশিল্পে নারী কৃষকদের অবদান উদযাপন।’
তিনি জানান, দুগ্ধ খাতে নারীদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর প্রথমবারের মতো একজন নারী দুগ্ধ খামারি এবং একজন নারী দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ উদ্যোক্তাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুম জানান, দিবসটি উপলক্ষে ৯ জুন শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও হোম কিচেন ডেইরি রেসিপি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। ১০ জুন অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য র্যালি, সচেতনতামূলক সেমিনার, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।
পশুপালন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো: রুহুল আমিন বলেন, ‘মানবদেহের বৃদ্ধি ও সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পুষ্টি উপাদানই দুধে বিদ্যমান। দেশের দুগ্ধ শিল্পের টেকসই উন্নয়নে ডেইরি বিজ্ঞান শিক্ষার যথাযথ মূল্যায়ন এবং খাতটির বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিশ্ব দুগ্ধ দিবসের মূল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাকৃবি ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। এছাড়া দেশের বিশিষ্ট ডেইরি বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা এতে অংশ নেবেন।



