ঢাবি প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অম্লান রাখার প্রত্যয়ে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ‘জুলাই নির্ভীক’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে ডাকসু প্রাঙ্গণে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করেন। এ সময় শহীদ মেহেদী হাসান জুনায়েদের বাবা, শহীদ সোহেলের বাবা, শহীদ দ্বীন ইসলামের বাবা, শহীদ রমিজ উদ্দিনের বাবা, শহীদ সাইদুল ইসলামের মা, শহীদ জহিরুল ইসলাম শুভর মা এবং শহীদ তাহের জামান প্রিয়র মা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ৫ আগস্ট প্রায় ৫০ জন শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যের উপস্থিতিতে স্মৃতিস্তম্ভটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. ইকবাল হায়দার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘জুলাই নির্ভীক’ স্মৃতিস্তম্ভের ওপর প্রবন্ধ পাঠ করেন মো. ইকবাল হায়দার। তিনি স্থাপনাটির নকশা ও ভাবনা তুলে ধরে বলেন, স্মৃতিস্তম্ভের ভাঁজ করা ধাতব কাঠামো ক্ষতবিক্ষত হলেও ভেঙে পড়েনি; রুক্ষ হলেও দুর্বল নয় এবং আঘাতপ্রাপ্ত হলেও নত নয়। ঊর্ধ্বমুখী এ কাঠামো জুলাইয়ের নির্ভীক চেতনার স্থায়ী স্থাপত্যিক অভিব্যক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকবে।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘জুলাই নির্ভীক’ কেবল একটি স্মৃতিস্তম্ভ নয়, এটি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অনড় অবস্থানের প্রতীক। এখান থেকেই শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরবেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবেন।
তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে যেন আর কোনো নব্য ফ্যাসিবাদের জন্ম না হয় এবং ক্যাম্পাসে গণরুম ও গেস্টরুমের জুলুম ফিরে না আসে, সে জন্য এই স্মৃতিস্তম্ভ শিক্ষার্থীদের নির্ভীক থাকার প্রেরণা জোগাবে। স্মৃতিস্তম্ভের বৃত্তাকার কাঠামো ঐক্যবদ্ধ শক্তির বার্তা বহন করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাদিক কায়েম আরো বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। তিনি শহীদদের জুলাইয়ের আন্দোলনের প্রকৃত নায়ক উল্লেখ করে তাদের স্মৃতি ও বার্তা দেশ ও বিশ্বের মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন শহীদ মেহেদী হাসান জুনায়েদের বাবা। এতে দেশ, জাতি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের জন্য দোয়া করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিমউদ্দিন খান (খান জসিম), সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, ক্যারিয়ার উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম এবং কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মুনির ও রাইসুল ইসলামসহ ডাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।



