ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির মাধ্যমে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা ভবনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রক্তিমার উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
রক্তিমার সভাপতি সোহরাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য আল মামুন ও হিতুআরা খাতুনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. হাফিজুর রহমান ও প্রফেসর ড. আসাদ-উদ-দৌলা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকে। তাদের মধ্যে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের প্রবণতাও রয়েছে।
অনিয়মিতভাবে খাবার গ্রহণ ও অতিরিক্ত রাত জাগার কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই নিয়মিত ও পরিমিত খাবার গ্রহণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের খাবার কিংবা স্ট্রিট ভেন্ডরগুলোর খাবারের মান সবসময় শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তবে অনিয়মিতভাবে খাবার গ্রহণ এবং অতিরিক্ত রাত জাগা থেকে শিক্ষার্থীদের বিরত থাকতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭০ বছর। কিন্তু পড়ালেখা ও অন্যের ওপর নির্ভরশীলতার সময় বাদ দিলে একজন মানুষ নিজের নিয়ন্ত্রণে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়ই কাটানোর সুযোগ পায়। তাই সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে জীবনের এই সময়কে কার্যকর ও অর্থবহ করে তুলতে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার বিকল্প নেই।’
শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভাইস চ্যান্সেলর রক্তিমাকে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরো বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মানবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি তরুণদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতেও সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
অনুষ্ঠানে রক্তিমার নবীন সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পাশাপাশি সংগঠনের প্রবীণ সদস্য, সেরা স্বেচ্ছাসেবক ও সর্বোচ্চ রক্তদাতাদের সম্মাননা দেয়া হয়।
এ সময় সংগঠনের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো: আতিকুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. মসিউর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।



