খুবি প্রতিনিধি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক মো: রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সাথে অশালীন আচরণ, শ্লীলতাহানির ও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে বিষয়টি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সাত সদস্যের একটি কমিটি কাজ শুরু করেছে।
কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক মোছা. তাসলিমা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, মঙ্গলবার অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠানো বিভিন্ন উত্যক্তমূলক বার্তার স্ক্রিনশট ও অন্যান্য প্রমাণ সংযুক্ত করে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, শুরুতে অভিযুক্ত শিক্ষক তার সাথে স্বাভাবিক ও সৌজন্যমূলক আচরণ করলেও পরবর্তীতে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ক্রমাগত কুরুচিপূর্ণ ও অস্বস্তিকর বার্তা পাঠাতে শুরু করেন।
প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি ফেসবুকে তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর পরদিনই তিনি সেটি গ্রহণ করেন এবং সাথে সাথে বার্তা পাঠানো শুরু করেন। বিষয়টি প্রথমে আমাকে বিস্মিত করেছিল। পরে তার পাঠানো বার্তাগুলোর ধরন ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।’
তিনি আরো বলেন, ‘একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। শুরুতে প্রভাবশালী একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পেয়েছিলাম। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকেই আমি অভিযোগ করেছি।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপক মো: রেজাউল ইসলাম দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক।
তিনি বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে আমার মোবাইল ফোন চুরি হয়ে যায়। এরপর আমি আমার ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিই। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে, তবে এখনো ফোনটি উদ্ধার হয়নি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক তাসলিমা খাতুন বলেন, ‘অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হবে।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো: হারুনর রশিদ খাঁন জানান, ডিনদের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষককে অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তার স্থলে ড. মো: ইয়াসিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।



