পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলমান রোহিঙ্গা ইস্যুটি বাংলাদেশের তৈরি করা সমস্যা নয়, কিন্তু এটি আমাদের জন্য একটি বিশাল সমস্যা। এবার জাতিসঙ্ঘে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করা হবে। মিয়ানমারের সীমান্তের ভেতরের পরিস্থিতি এবং আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার ও রিজিওনাল কমপ্লিকেশন বিবেচনায় আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি না হলে এই সমস্যার সমাধান কঠিন।
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশী সংস্থা আয়োজিত ‘আসন্ন জাতিসঙ্ঘ সম্মেলন ও বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং’ সেমিনারে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমানে নতুন সরকারের ছয় মাস অতিক্রম হয়েছে। এই সরকারের কিছু ভালো কাজ করার পলিটিক্যাল উইল ও ইনটেনশন রয়েছে। আমরা শুধু ভালোটা বহির্বিশ্বে গিয়ে প্রচার করতে চাই না, আদতেই ভালো কিছু করতে চাই; যাতে আপনারা বলতে পারেন যে ভালো কিছু হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীদের সুবিধার জন্য ‘বাংলাদেশ ইনভেস্ট’ নামে ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন পাশ হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীদের ১০ জায়গায় ঘুরে বেড়াতে না হয় এবং এক পয়েন্টেই সব সুবিধা পান। ডিজিটাল রিসোর্স ও অনলাইন ফার্ম/কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া আরো বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ নামক কনসোলিডেটেড ডেটাবেস নিয়ে সরকার কাজ করছে, যেখানে একজন নাগরিকের একটি কার্ডেই সব তথ্য থাকবে।
তিনি বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে দুই লাখ প্রবাসী কার্ড দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রবাসের শ্রম বাজারে দক্ষ নারী ও পুরুষ শ্রমিক পাঠাতে কাজ চালু হয়েছে। সম্প্রতি ক্যাবিনেটে আমাদের নতুন ‘ভিসা পলিসি’ পাস হয়েছে, যা বাংলাদেশকে আরো ফ্রেন্ডলি কান্ট্রি হিসেবে গড়ে তুলবে। ইকোনমিক ডিপ্লোমেসিতে কোনো একক সোর্সের ওপর নির্ভরশীল না থেকে এনার্জি ডাইভার্সিফিকেশনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা আফ্রিকান মহাদেশে এনার্জি সোর্স খোঁজার কাজ করছি।
শামা ওবায়েদ বলেন, পরিবর্তন একদিনে হবে না, সময় লাগবে। তবে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি সেক্টরের লোকজনের সাথে কথা বলছেন, ইনপুট নিচ্ছেন এবং একটি গুণগত পরিবর্তন আনতে চাচ্ছেন। একা সরকারের পক্ষে সব করা সম্ভব নয়, সবাইকে মিলে কাজ করতে হবে। ভঙ্গুর এডুকেশন সেক্টরকে উন্নত করতে প্রাইমারি লেভেল থেকে কাজ শুরু হয়েছে।



