আন্তর্জাতিক কার্বন বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিশাল সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার মিচেল লি।
পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ নির্মাণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্কট মোকাবেলায় কার্বন বাণিজ্যের পাশাপাশি পানি ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকাস্থ সিঙ্গাপুর হাইকমিশনে ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্টিস ফাউন্ডেশনের (সিএজেএফ) একটি প্রতিনিধিদলের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে হাইকমিশনার এসব কথা বলেন।
বৈঠকে জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায়বিচার, কার্বন বাণিজ্য, নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু প্রযুক্তি, টেকসই নগরায়ণ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে মিচেল লি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্বন বাণিজ্য বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র, যেখানে বাংলাদেশ নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুবিধাও অর্জন করতে পারে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।
সিঙ্গাপুরের উল্লম্ব কৃষি ও সীমিত ভূমিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে টেকসই খাদ্য উৎপাদনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন হাইকমিশনার মিচেল লি। তিনি পানি ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি দক্ষতা, খাদ্য উৎপাদন ও টেকসই নগর উন্নয়নে সিঙ্গাপুরের অর্জন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় হতে পারে বলেও মতামত দেন।
হাইকমিশনার জানান, সীমিত ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যেও আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সাহায্যে সিঙ্গাপুর টেকসই নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে পানি ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি দক্ষতা, বর্জ্য শোধন ও উলম্ব (বহুতলা বিশিষ্ট) কৃষির ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের অর্জিত প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী শিক্ষণীয় মাধ্যম হতে পারে।
অন্যদিকে, সিএজেএফের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন শুধু পরিবেশগত সঙ্কট নয়; এটি অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, পানি, স্বাস্থ্য, নগরায়ণ ও মানুষের জীবন-জীবিকার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই জলবায়ু মোকাবেলায় বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে একসাথে কাজে লাগানোর প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। অন্যদিকে সিঙ্গাপুর সীমিত ভূমি, পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যেও প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দুই দেশের অভিজ্ঞতার সমন্বয় জলবায়ু মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
বৈঠকে বাংলাদেশে কার্বন প্রকল্পের সম্ভাবনা, কার্বন নিঃসরণ কমানো ও পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়েও মতবিনিময় হয়। আলোচনায় বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরো সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও উঠে আসে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে সবজি, সামুদ্রিক খাদ্যসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহের সুযোগ এবং সিঙ্গাপুরের আধুনিক খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি থেকে বাংলাদেশের শেখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারের পক্ষ থেকে দূরদর্শী, বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। ভবিষ্যতে জলবায়ু, পরিবেশ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা, নগর ব্যবস্থাপনা ও কার্বন বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের বেসরকারি ও নাগরিক পর্যায়ের অংশীদারত্ব আরো বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
সিএজেএফের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল রওমান স্মিতা, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মঈন উদ্দিন খান, ইমতিয়াজ আহমেদ, দৈনিক আমার বার্তার উপসম্পাদক এস এম রানা ও মেহেদী হাসান খান। ইউএনবি



