সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দক্ষিণ ভাদলী গ্রামের দিনমজুর সাগর (৩৩) হত্যার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার, মামলা গ্রহণ, জড়িতদের গ্রেফতার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আজ রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন ভার্ড-বাংলাদেশ আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর সাগরকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রাখা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ ডিসেম্বর তার মৃত্যু ঘটে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম হতাশার মধ্যে রয়েছে।
মানববন্ধনে ভার্ড-বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান এম.এস.এ রেজা বলেন, একজন অসহায় মানুষের মৃত্যু কোনোভাবেই উপেক্ষিত হতে পারে না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো: মাহাবুব আলম আব্বাসী বলেন, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা শুধু একটি পরিবারকেই কষ্ট দেয় না, এটি সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতিকেও উৎসাহিত করে।
এদিকে সাগর হত্যাকাণ্ডের অনুসন্ধানে নতুন করে উঠে এসেছে যশোর-বেনাপোল সীমান্তভিত্তিক একটি কথিত স্বর্ণ চোরাচালান ও অপরাধচক্রের নাম। বিভিন্ন রাজনৈতিক, গোয়েন্দা ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে, সীমান্ত এলাকায় স্বর্ণ চোরাচালান, হুন্ডি ব্যবসা, মাদক পাচার এবং প্রভাব বিস্তারের সাথে জড়িত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে।
অভিযোগের তীর যশোরের শার্শা উপজেলার শহিদুল ইসলাম শহীদ ওরফে ‘গোল্ড শহীদ’, আনসারুল হক রানা, মেহেরুল্লাহ মেম্বার এবং গোল্ড নাসিরের দিকে। বেনাপোল সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ পাচার হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও জানা গেছে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরো অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমে একাধিকবার বিষয়টি প্রকাশ পেলেও সাগরের পরিবার এখনো কাঙ্ক্ষিত বিচার পায়নি। পাশাপাশি বিচার চাওয়ার কারণে পরিবার ও সম্ভাব্য সাক্ষীদের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।
বক্তারা সাগর হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত, মামলা গ্রহণ, জড়িতদের গ্রেফতার, ভুক্তভোগী পরিবার ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশের দাবি জানান। একইসাথে সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানানো হয়।



