রাজধানীর মৌচাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

সোমবার (৮ জুন) রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হোসেন তালুকদার
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হোসেন তালুকদার |সংগৃহীত

রাজধানীর মৌচাক আনারকলি মার্কেটের সামনে ছুরিকাঘাতে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন তালুকদার (৫৭) নিহত হয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির রমনা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মাজাহার বলেন, রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সালিশকে কেন্দ্র করে বিল্লালকে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হত্যাকারীরা ঘটনার পর পর পালিয়ে গেছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনার পর রাতেই যুবদলের রমনা থানার আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবুকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সাথে যুবদলের রমনা থানা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি।

নিহত বিল্লালের পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যুবদল নেতা দিদারুল ইসলাম ও তার অনুসারীরা রাত পৌনে আটটার দিকে আনারকলি মার্কেটের সামনে বিল্লাল হোসেনের ভাগনে মোবারক হোসেনকে (আকাশ) মারধর করছিলেন। খবর পেয়ে বিল্লাল হোসেন সেখানে যান এবং বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। সালিশ–বৈঠকের একপর্যায়ে দিদারুল ইসলামের সাথে বিল্লালের কথা-কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে বিল্লালের বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়। নিহত বিল্লাল হোসেনের বাসা মালিবাগের বাগানবাড়ি এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত ইউসুফ তালুকদার।

বিল্লালকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া তার ভাগনে জুবায়ের হোসেন সাংবাদিকদের জানান, যুবদল নেতা দিদারুল ইসলামের নেতৃত্বে তার মামার ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনার সময় তিনিও সেখানে ছিলেন জানিয়ে জুবায়ের বলেন, ‘একদল লোক আনারকলি মার্কেটের সামনের খাবারের দোকানগুলোতে চাঁদাবাজি করছিল। তখন আমার ভাই মোবারক হোসেন আকাশ এর প্রতিবাদ করলে তাকে আটকে রেখে মামাকে (বিল্লাল হোসেন) সেখানে যেতে বলে তারা। মামার সাথে আমরাও কয়েকজন সেখানে যাই। দুই পক্ষের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে ছোরা বের করে আমার ভাইকে (মোবারক) দুই দফায় হামলা করা হয়। কিন্তু ভাইয়ের কোপ লাগেনি। একপর্যায়ে পেছন থেকে এসে আমার মামার বুকে ছুরি মারে।’

এ বিষয়ে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, কারা বিল্লাল হোসেনকে ছুরিকাঘাত করেছে, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।