জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা ও অভিবাসী চোরাচালান : গ্রেফতার ৩

সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স মূলত একটি ট্রাভেল অ্যাজেন্সি হলেও তাদের কোনো বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক
গ্রেফতার তিনজন
গ্রেফতার তিনজন |সংগৃহীত

জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা, জাল নথি ব্যবহার এবং অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেলের একটি দল রোববার (১৪ জুন) বিকেল আনুমানিক ৪টায় উত্তর বাড্ডাস্থ রূপায়ণ মিলেনিয়াম স্কয়ারে অবস্থিত ‘সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্সে’ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

সোমবার (১৫ জুন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- চাঁদপুর সদর থানার মুন্সীরহাট গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাক প্রধানিয়ার ছেলে মাঞ্জুর প্রধানিয়া (৩৫), চাঁদপুরের কচুয়া থানার ফতেপুর গ্রামের মো: ফয়জুল্লাহর ছেলে মো: ওসমান গনি (২৫) ও লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার আদালতপুর গ্রামের মৃত কাজী আবুল কাশেমের ছেলে কাজী মো: আতা-ই-রাব্বি (২৮)।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, জর্ডানের আম্মানে আল-তাজামুয়াত ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে অবস্থিত জেরাশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ফ্যাশন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের নাম, লোগো ও সিলমোহর জাল করে সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স নামক প্রতিষ্ঠানটি জর্ডানে শ্রমিক ভিসায় চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে আসছিল।

এ বিষয়ে জর্ডানে অবস্থিত জেরাশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ফ্যাশন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ জর্ডানে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে অভিযোগ দাখিল করে। পরে অভিযোগটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলে বিষয়টি তদন্তের জন্য সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেল অনুসন্ধান শুরু করে।

প্রাথমিক তদন্তে আরো জানা যায়, সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স মূলত একটি ট্রাভেল অ্যাজেন্সি হলেও তাদের কোনো বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স নেই। তা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে জর্ডান, সৌদি আরব, সার্বিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিক পাঠানোর বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছিল।

সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির অফিস থেকে ৫৫টি বাংলাদেশী পাসপোর্ট, ১৬টি বিদেশগমন সংক্রান্ত চুক্তিনামা (নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে), দুটি সিপিইউ ও একটি ডিভিআর জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পাসপোর্টগুলোর মধ্যে ১৮টি জর্ডানে এবং অবশিষ্ট পাসপোর্টগুলো সৌদি আরবে গমনেচ্ছুক ব্যক্তিদের বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে যে, বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করছিল, যা অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই সংক্রান্তে সিআইডি উপরে উল্লিখিত তিনজন অভিযুক্তসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মামলা করে।

অপরাধের সাথে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি ও সহযোগীদের শনাক্ত এবং গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।