প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী কমিশনার (এসি) সোহেল উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত-১৫ এর বিচারক নাজনীন আক্তার তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সিআর-২৩৪১/২০২২ নম্বর মামলায় সোহেল উদ্দিন এতদিন জামিনে ছিলেন। গত মাসে এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। একই সাথে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা আরো দুটি মামলার বিচার কার্যক্রমও বুধবার শুরু হওয়ার কথা ছিল।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসলেহ উদ্দিন জসিম আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সোহেল উদ্দিন ৩৬তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০১৭ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে পুলিশে যোগ দেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বগুড়ার বাসিন্দা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রিফাত জাহান স্নিগ্ধার সাথে পরিচয়ের পর ২০২২ সালে তাদের বিয়ে হয়। পরে স্নিগ্ধা জানতে পারেন, সোহেল উদ্দিনের আগে আরেকটি বিয়ে ছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহের একপর্যায়ে যৌতুক দাবি, নির্যাতন ও প্রতারণার অভিযোগে তিনি একাধিক মামলা দায়ের করেন।
এ ছাড়া সহকারী কর কমিশনার (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) তানজিনা সাথীও প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সোহেল উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই মামলার বিচারও আদালতে চলমান।
অন্যদিকে, রিফাত জাহান স্নিগ্ধার দায়ের করা নির্যাতনের অভিযোগের তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বলে মামলার নথিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, দুদকের একটি প্রাথমিক অনুসন্ধানে সোহেল উদ্দিনের সম্পদ নিয়েও তদন্ত হয়েছে। দুদকের কুড়িগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমান জানান, অনুসন্ধান প্রতিবেদন ইতোমধ্যে কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে সোহেল উদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রিফাত জাহান স্নিগ্ধাকে তিনি তালাক দিয়েছেন এবং তানজিনা সাথীর অভিযোগও অসত্য বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, তার জানা মতে, সোহেল উদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো দেওয়ানি প্রকৃতির। তবে ফৌজদারি মামলায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।



