রাজধানীর গেন্ডারিয়ার করাতীটোলা এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় এক নারীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এ সময় দুইটি বিদেশী পিস্তল, ১২ রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন, ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মোহাম্মদ জিসান (১৯), মোহাম্মদ রমজান (১৯), মোহাম্মদ শাহীন (৩৪), শাবাব হোসেন শৈকত (২৯) ও মোহাম্মদ মাহিম (১৮)।
এতে গুলিবিদ্ধরা হলেন পথচারী আশা আক্তার (২০), সিয়াম (১৮) ও চা-দোকানি আলমগীর হোসেন রাসেল।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ আগস্ট গেন্ডারিয়া থানার করাতীটোলা এলাকায় মাদক কারবার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মনির গ্রুপ ও অটো সজল গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি হয়। গোলাগুলির সময় আশার ডান পায়ে, সিয়ামের বুকের বাঁ পাশে এবং আলমগীরের মাথায় গুলি লাগে।
র্যাব জানায়, আলমগীর ও সিয়ামের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং তারা বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন। আশা আক্তারও সুস্থ ও স্থিতিশীল আছেন। তবে তার পায়ে থাকা গুলি এখনো অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর র্যাব-১০-এর যাত্রাবাড়ী ক্যাম্পের একটি দল ছায়াতদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গেন্ডারিয়ার মুন্সিরটেক এলাকা থেকে জিসান ও রমজানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ৮ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ শাহীনকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল বুধবার পৃথক অভিযানে শাবাব হোসেন শৈকত ও মোহাম্মদ মাহিমকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, শাবাবকে গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি ও তিনটি ম্যাগাজিনসহ দুইটি বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা মূল্যের ৪২০টি ইয়াবা, ৪০০ পুরিয়া হেরোইন, ৯০০ গ্রাম গাঁজা, নগদ অর্থ ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, শাবাব হোসেন শৈকত যাত্রাবাড়ী থানার তিনটি মাদক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
এর আগে একই গোলাগুলির ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগ চারজনকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুইটি বিদেশী পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, একটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি ধারালো ছোরা ও ১৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, উদ্ধার হওয়া ১২ রাউন্ড গুলি ও তিনটি ম্যাগাজিনের মধ্যে একটি ম্যাগাজিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্রের ম্যাগাজিন ও গোলাবারুদের অংশ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতার পাঁচজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অস্ত্র, মাদক ও পুলিশের লুণ্ঠিত গোলাবারুদের উৎস এবং এর সাথে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্তে অনুসন্ধান চলছে।



