বান্দরবানে আবারো বেড়েছে নদীর পানি

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম জিন্নাপাড়া এলাকায় ঢাকার ২১ পর্যটক আটকা পড়েছেন। তাদের উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনী থেকে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মিনারুল হক, বান্দরবান

Location :

Bandarban
ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবান শহরের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পানির নিচে
ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবান শহরের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পানির নিচে |নয়া দিগন্ত

বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সকালে নদীর পানি কিছুটা কমলেও বিকেলে আবার বেড়েছে। থেমে থেমে বৃষ্টি, সেইসাথে নদীর অববাহিকায় ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি আবারো বেড়েছে।

বান্দরবান শহর ও আশেপাশের এলাকায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। শহরের ১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো তিন হাজারেরও বেশি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শুকনো খাবার ও খিচুড়ি দেয়া হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় পৌরসভার পক্ষ থেকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সেনাবাহিনী, বিজিবি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিচ্ছেন।

সড়কের উপর পানি উঠে যাওয়ায় বান্দরবানের সাথে এখনো চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙ্গামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়া রোয়াংছড়ি ও আলীকদম উপজেলারও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে সাঙ্গু নদীর পানি কিছুটা কমলেও উজানে বৃষ্টিপাত বাড়ায় বিকেলে আবারো বেড়েছে নদীর পানি। গত তিন দিন থেকে বান্দরবান শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে।

Bandarban-Flood-222
বন্যার্তদের মাঝে খাবার বিতরণ করছেন সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী | নয়া দিগন্ত

দুপুরে সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যার্তদের মাঝে খাবার বিতরণ করেছেন।

এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম জিন্নাপাড়া এলাকায় ঢাকার ২১ পর্যটক আটকা পড়েছেন। তাদের উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনী থেকে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: সানিউল ফেরদৌস সাংবাদিকদের জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নিয়ে বন্যার্তদের মাঝে সার্বিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও যেখানে মানুষ আটকা পড়েছে এসব জায়গায় প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় খাবার ও ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানো হচ্ছে।