কয়রায় ভেঙে পড়েছে কলেজের ছাদ, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

‘এক সময় এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান খুব ভালো ছিল। কিন্তু ভবনের বেহাল অবস্থার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের এখানে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থী সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।’

কয়রা (খুলনা) সংবাদদাতা

Location :

Khulna
ভেঙে পড়েছে কলেজের ছাদ
ভেঙে পড়েছে কলেজের ছাদ |নয়া দিগন্ত

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার মহারাজপুর ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী গাজী আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজের জরাজীর্ণ মূল ভবনের একটি অংশের ছাদ ধসে পড়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সাপ্তাহিক ছুটির দিন এ ঘটনা ঘটে। তবে ওই সময় শিক্ষার্থী বা শিক্ষক উপস্থিত না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।

জানা গেছে, দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত ভবনেই নবম, দশম ও একাদশ শ্রেণির পাঠদান চলছিল। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির পর ভবনের ছাদ ধসে পড়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মূল দোতলা ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের অধীনে ১৯৯৫ সালে ভবনের প্রথম তলা ও ২০০১ সালে দ্বিতীয় তলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। তবে ঘূর্ণিঝড় আইলা, ইয়াস ও রিমালের সময় উপকূলীয় বাঁধ ভেঙে নোনা পানিতে দীর্ঘদিন নিমজ্জিত থাকায় ভবনটির কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বর্তমানে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, পিলার ও ছাদ থেকে রড বেরিয়ে এসেছে এবং দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। এর আগেও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় একটি ছোট টিনশেড কক্ষে গাদাগাদি করে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে বলে জানান শিক্ষকরা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো: রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেউই স্বস্তিতে পাঠদান ও পাঠগ্রহণ করতে পারে না। টিনশেডের ছোট কক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস পরিচালনা করাও অত্যন্ত কষ্টকর।’

স্থানীয় বাসিন্দা দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, ‘এক সময় এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান খুব ভালো ছিল। কিন্তু ভবনের বেহাল অবস্থার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের এখানে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থী সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।’

প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল্লাহ হায়দার বলেন, ‘শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভবনটি দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণ জরুরি। এ বিষয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।’

কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন ভবন অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং নতুন ভবন বরাদ্দের জন্য চেষ্টা চলছে।’

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘গাজী আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত নতুন স্কুল ভবন ও একটি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শুধু আশ্বাস নয়, প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থীর জীবন ও শিক্ষার নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।