উত্তাল ঝড়ো হাওয়া, বৃষ্টি, নদীর পানি বৃদ্ধি, প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণিপাকের কারণে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পশ্চিম গাঁওদিয়া এলাকার পদ্মাতীরে হঠাৎ করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ এলাকায় জিও ব্যাগ সরে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। খবর পেয়ে এরই মধ্যেভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু করেছে মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
একদিকে ভিটেমাটি হারানোর ভয় আর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদী তীরবর্তী এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবার। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বেশ কিছু বসতবাড়ি, সড়ক, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। এরই মধ্যে ভাঙন আতঙ্কে নদীর তীর সংলগ্ন কয়েকটি পরিবার তড়িঘড়ি করে ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
পশ্চিম গাঁওদিয়া এলাকার স্থানীয় লোকজন জানায়, হঠাৎ করে পদ্মার পানির তীব্র স্রোতে পাড় ধসে পড়তে শুরু করেছে। সোমবার দুপুর ১২টার পর থেকে ভাঙন শুরু হয়েছে। চোখের সামনে বেশ কিছু জমি জিও ব্যাগসহ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আর একটু এগোলেই সড়কটিও থাকবে না। আমাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আমাদের শেষ সম্বল বসতভিটা ভেঙে গেলে আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া না হলে আমাদের ভিটেমাটি হারিয়ে যাবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন প্রতিরোধে এর আগে ফেলা জিও ব্যাগের একটি অংশ প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণিপাকে সরে যাওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তারা বলছেন, জরুরি ভিত্তিতে নতুন করে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানো না গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গাঁওদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তোবারক ঢালী নয়া দিগন্তকে জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই জোয়ারের পানির সাথে ঘূর্ণাবর্তে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ফুট এলাকা নদীতে ভেঙে গেছে। এর আগে সোমবার দুপুর থেকে হঠাৎ করে নদীর তলদেশে ভাঙন শুরু হয়। ভাঙন এলাকার তীরেই এখন লম্বা লগি ফেলে দেখেছি, সেখানে ২৫-২৮ হাতেরও বেশি গভীর হয়ে গেছে। এতে আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয় বলে তিনি জানান।
এদিকে মঙ্গলবার ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে আসেন লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা হয়েছে। তারা তাদের সাধ্য মতো ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে। আপাতত : জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করা যায় কি না, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
আজ বুধবার সকালে লৌহজং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: শাহাদাত হোসেন নয়া দিগন্তকে জানান, ভাঙন প্রতিরোধে এরই মধ্যে মঙ্গলবার থেকে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ডাম্পিং শুরু করা হয়েছে। আজ বুধবারও ডাম্পিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে সার্ভে করে বুঝা গেছে এখানে অন্তত : ৫০-৬০ মিটারের মতো জায়গায় ভাঙন হয়েছে।
এদিকে পশ্চিম গাঁওদিয়া এলাকাকে পদ্মার ভাঙন থেকে রক্ষায় নদীতীরে স্থায়ীভাবে ব্লক স্থাপনের জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানায় পদ্মা তীরবর্তী বাসিন্দারা।



