গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের জুলাই শহীদ নাজমুল মিয়ার মা গোলেভান বেওয়ার প্রত্যাশা মাথা গোঁজার ঠাঁই। একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোক আর মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় দিন কাটছে গোলেভান বেওয়ার।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সরেজমিনে উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামে গিয়ে শহীদের মায়ের এ অসহায়ত্বের বিষয়টি জানা যায়।
গোলেভান বেওয়া বলেন, আমার রিকশাচালক স্বামী অনেক আগে মারা গেছেন। আমরা অত্যন্ত গরিব মানুষ। নিজেদের কোনো বসতভিটা নেই। দাদি শাশুড়ি রাহেলা বেওয়ার জায়গায় কোনোমতে একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘর তুলে থাকছি। সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, নিজের একটু বাড়িভিটা করার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করছিল নাজমুল। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে সে মারা যায়। ছেলেটি বেঁচে থাকলে হয়ত আমাদের একটা নিজস্ব মাথা গোঁজার ঠাঁই হতো। এখন সরকার যদি আমাদের একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দেয়, তবে ছেলের স্বপ্নটা পূরণ হতো।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অতিদরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন নাজমুল হাসান। তার বাবা হাইদুল ইসলাম বেশ কয়েক বছর আগে মারা যান। এরপর থেকে মা গোলেভান বেওয়া ও ছোট দুই বোন হিরা মনি ও আয়েশা খাতুনকে নিয়ে সংসারের হাল ধরেন নাজমুল।
জীবিকার তাগিদে ঢাকার আশুলিয়ায় সিয়াম গার্মেন্টসে চাকরি নেন তিনি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুরু হলে নাজমুলও তাতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
সেই সময় ৪ আগস্ট আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে নাজমুল গুলিবিদ্ধ হন। একটি বুলেট তার পেটের ডান পাশ দিয়ে ভেতরে ঢুকে যায়।
তখন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।
পরে ধার-দেনা করে ছেলের লাশ গ্রামের বাড়িতে এনে ১০ আগস্ট স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করেন দরিদ্র গোলেভান বেওয়া।
শহীদ নাজমুল হাসানের বোনজামাই আব্দুল মজিদ মিয়া বলেন, আন্দোলনে নাজমুলের মৃত্যুর পর শাশুড়ি তার অস্থায়ী বাড়িতে একদম একা হয়ে পড়েন। তাকে কিছুটা দেখভাল ও সহযোগিতা করার জন্য তখন থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আমরা এ বাড়িতেই থাকছি।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জুলাই যোদ্ধা সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, শহীদ নাজমুল হাসানের পরিবারের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। তাদের প্রয়োজনে আমাদের সংগঠন সবসময় পাশে থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ নাজমুল মিয়ার পরিবারের পাশে থাকা এবং তাদের সহযোগিতা করা অব্যাহত আছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দিবসে এ পরিবারকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।



