সিলেটে থামছে না হাম উপসর্গে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির রোগীর সংখ্যা। এরই মধ্যে সিলেটজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই সিলেটে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে দু’জনের। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে ১ জানুয়ারি থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৬৩ জনের।
রোববার (৫ জুলাই) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সরকারি হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা দু’জন হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার মাধ্যমে ডেঙ্গু শনাক্ত হলেও সেসব তথ্য সরকারি হিসাবে আসছে না বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে, বর্ষার শুরুতেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় নড়েচড়ে বসেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। গত ৯ জুন থেকে ডেঙ্গু নিধনে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছে তারা। নগরীতে প্রতিদিন চলছে ডেঙ্গু নিধন কার্যক্রম। সেইসাথে বিভিন্ন স্থানে মিলছে এডিশ মশার লার্ভা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নাগরিক অসচেতনতা ও মশা নিধনে গাফিলতির কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সিলেট বিভাগে ৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩১ জন হবিগঞ্জ জেলায়। এছাড়া সিলেট জেলায় ১১ জন ও সুনামগঞ্জ জেলার ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী রয়েছে। এছাড়া একজন রোগী ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সিলেটে এসেছেন। এছাড়া বিভাগের বাইরে থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আরো দু’জনের শরীরেও ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে দু’জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: জাহিদুল ইসলাম জানান, সিলেটে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু আক্রান্তের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের অধিকাংশেরই ট্রাভেল হিস্ট্রি রয়েছে। তবে এখন থেকেই সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে, অন্যথায় ডেঙ্গু জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, মশারি ব্যবহার এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা: উমর রাশেদ মুনির জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ওসমানী হাসপাতালের নতুন ভবনে একটি ডেঙ্গু কর্নার খোলা হয়েছে। এতে ডেঙ্গু রোগীর জন্য ২০টি শয্যা রয়েছে।



