বিদেশে অর্থ পাচারে অভিযুক্ত চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী এস আলমের ভাগ্নে মোস্তান বিল্লাহ আদিল ও তার স্ত্রী সাদিয়া জামিলের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের পৃথক তিনটি মামলায় অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের দু’টি আদালত। ১৬৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার তিনটি চেকের মামলায় এ বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আদেশ দেয়া হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ ৪র্থ আদালত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত-১ মামলাগুলোর বিচার শুরুর আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, আদিল কর্পোরেশনের প্রোপ্রাইটর ও এস আলমের ভাগ্নে মোস্তান বিল্লাহ আদিল এবং তার স্ত্রী সাদিয়া ট্রেডার্সের প্রোপ্রাইটর সাদিয়া জামিলের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক পিএলসির খাতুনগঞ্জ শাখা এসব মামলা দায়ের করেছিল।
আদিল কর্পোরেশনের কাছে গত বছরের ২৮ মে পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখার মোট পাওনা দাঁড়ায়, এক হাজার ২৮৭ কোটি ৭৬ লাখ ৭২ হাজার ৮৮২ টাকা। এ অনাদায়ি ঋণ আদায়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়েরের পাশাপাশি, ঋণের বিপরীতে দেয়া চেকের ভিত্তিতে দি নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্ট বা চেক ডিজঅনারের ২৫টি মামলা রুজু করে।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর যুগ্ম দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক বিপ্লব দেবনাথ রোববার দু’টি মামলায় (এসটি ২১০৫/২৬ ও ২১০৬/২৬) আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন। যে দু’টি মামলায় চার্জ গঠন করা হয়েছে, সেই চেক দু’টির মোট মূল্য ১১৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা। বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশস্য ও মশলা আমদানি এবং স্থানীয় বাজারে বিক্রির নামে ব্যাংক থেকে এসব ঋণ নেয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে, সাদিয়া ট্রেডার্সের কাছে এক হাজার ১৯৭ কোটি ৮৩ লাখ ৯০ হাজার ৫৬৪ টাকা বকেয়া ঋণ আদায়ের জন্য গত বছরের ২২ মে অর্থঋণ আদালতে মামলা করে ইসলামী ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখা। ওই ঋণের টাকা আদায়ে চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল ব্যাংকের পক্ষে একতরফা রায় দেন অর্থঋণ আদালত।
পাশাপাশি, ঋণের বিপরীতে প্রদত্ত চেকের ভিত্তিতে গত বছরের ১৭ এপ্রিল থেকে ১৯ জুনের মধ্যে মোস্তান বিল্লাহ আদিলের স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটর সাদিয়া জামিলের বিরুদ্ধে এনআই অ্যাক্টের আওতায় আরো ২৪টি চেক ডিজঅনারের মামলা করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এরই ধারাবাহিকতায়, চট্টগ্রামের যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক শহীদুল্লাহ কায়সার রোববার একটি মামলায় (এসটি ১৬১২/২৬) আসামি সাদিয়া জামিলের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। এ মামলার চেকে উল্লিখিত টাকার পরিমাণ ৪৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
ব্যাংক সূত্র ও আদালতের নথি অনুযায়ী, দুটি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে অভিযুক্ত এ দম্পতির বিরুদ্ধে মোট ১৬৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার তিনটি চেকের মামলায় এ বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলো। বাকি মামলাগুলোও আদালতে বিচারাধীন আছে।



