পটুয়াখালীর গলাচিপায় মার্জিয়া (২০) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বাবা।
শুক্রবার (৫ জুন) আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ওই মামলা দায়ের করা হয়।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নে চর সুহুরী গ্রাম থেকে মার্জিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত মার্জিয়া গোলখালী ইউনিয়নের চর হরিদেবপুর গ্রামের আলতাফ হোসেন হাওলাদারের মেয়ে।
মামলার চার আসামি হলেন— নিহতের স্বামী রাসেল হাওলাদার (২৫), রাসেল হাওলাদারের বন্ধু লিমন (২৫), শ্বশুর বাচ্চু হাওলাদার (৪৭) ও শাশুড়ি মাসুমা বেগম (৪৪)।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মার্জিয়ার স্বামী রাসেল হাওলাদার ও তার বন্ধু লিমন দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন করতেন। মার্জিয়া স্বামীকে মাদকাসক্তি ও বন্ধু লিমনের সাথে মেলামেশা থেকে বিরত থাকতে বললে রাসেল ক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। বিষয়টি শ্বশুর-শাশুড়িকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো মার্জিয়াকে অপমানজনক কথাবার্তা বলতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় রাসেলের বন্ধু লিমন তাদের বাড়িতে আসেন। এ নিয়ে মার্জিয়া প্রশ্ন করলে রাসেল তাকে গালাগাল করেন। পরে রাসেল ও লিমন বাইরে যাওয়ার সময় মার্জিয়া বাধা দিলে আবারো তাকে অপমান করা হয়। বিষয়টি শ্বশুর-শাশুড়িকে জানালে তারাও তাকে তিরস্কার করেন। এসব ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে মার্জিয়া আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
গলাচিপা থানার ওসি (তদন্ত) মো: জিলোন সিকদার মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



