মতলব দক্ষিণ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মোবাইল চুরির সন্দেহে মো: তারেক ঢালী (১৮) নামের এক যুবককে গাছের সাথে বেধেঁ পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল। আহত তারেক বর্তমানে মতলব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক ওই যুবককে দেখতে তার বাড়িতে যান। পরে, সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে পুলিশ এ ঘটনার মূল অভিযুক্ত সফিক প্রধানকে (৩৫) আটক করেছে।
এর আগে, মঙ্গলবার সকালে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর দক্ষিণ পাড়া প্রধানীয়া বাড়িতে মারধরের ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে জানা যায়, ওই গ্রামের মরহুম জাকির হোসেন ঢালীর ছেলে তারেক ঢাকায় চাকরি করে। তারা দুই ভাই। ছোট ভাই মো: রাসেলও (১৩) তার সাথে কাজ করে। ছুটিতে বাড়িতে থাকাকালীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর বেলা তার ঘর থেকে পাশের প্রধানীয়া বাড়ির আল-আমীন, সফিক, তানিম, মোতালেব তারেককে তুলে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী তারেকের মা খুকী বেগম বলেন, ১২ বছর আগে তারেকের বাবা মারা যায়। আমি খেয়ে, না খেয়ে ছেলে দুটোকে নিয়ে জীবন কাটাই। ঘটনার দিন মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে অভিযুক্তরা আমার ছেলেকে ঘুম থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। কোনো কথা না বলে সফিক, আল আমিন, তানিম, মোতালেব প্রধান আমার ছেলেকে তাদের বাড়ি নিয়ে যায়।
খুকী বেগম বলেন, পরে তাদের বাড়িতে (প্রধানীয়া বাড়ি) নিয়ে মোবাইল চুরির অভিযোগ এনে গাছের সাথে বেঁধে নারিকেল গাছের ডাল দিয়ে পেটায়। এরপর মাথায় গামছা বেধে গরম পানি ঢালে।
তিনি বলেন, তারা থেমে থেমে ৬-৭ ঘন্টা পিটিয়েছে। সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে, কেউ আমার ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। পরে স্থানীয় সোবহান ঢালী, মো: রাকিব প্রধান, শরীফুল ইসলাম, নবী উল্লাহ পাটোয়ারী বিকেল ৩-৪টার দিকে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে আনে।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, টাকার অভাবে ছেলেকে ভালোভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। বিনা অপরাধে যারা আমার ছেলেকে গুরুতর জখম করেছে, আমি গরীব মা আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে তাদের বিচার চাই।
স্থানীয় নবী উল্লাহ পাটোয়ারী বলেন, মঙ্গলবার আছরের দিকে পুলিশ আহতের বাড়ি আসে। ওরা দুই ভাই ঢাকায় শহীদুল্লাহ হলের ক্যান্টিনে কাজ করে। খুবই অসহায় ছেলেটাকে তারা হত্যার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায়। ছেলেটাকে যারা এমনভাবে মেরেছে আমরা তাদের শাস্তি চাই। ওসি সাহেব এসে সঠিক বিচারের আশ্বাস দিয়ে গেছেন।
মতলব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে তাকে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, অভিযুক্ত সফিক প্রধানকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



