মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে গাগলাজুর ইউনিয়নের চিয়াডুবি ফসল রক্ষা বাঁধের ২৫০ মিটার অংশ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় দুই হাজার ৬৪৪টি ব্লক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে এক হাজার ৫৭৮টি ব্লক উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরো এক হাজার ৬৬টি ব্লক এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পাউবো।
পাউবো ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের চিয়াডুবি ফসল রক্ষা বাঁধের প্রায় ২৫০ মিটার অংশে বাঁধের সুরক্ষায় বসানো ব্লকগুলো গত ১৮ আগস্ট রাত থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরদিন স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি পাউবো ও উপজেলা প্রশাসনকে জানান। পরে ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়।
এ ঘটনায় গত ২৩ আগস্ট পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন মোহনগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নেত্রকোনা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এ পর্যন্ত দুই হাজার ৬৪৪টি ব্লক নিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এলাকাবাসীদের থেকে এক হাজার ৫৭৮টি ব্লক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাউবোর পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘নিয়ে যাওয়া ব্লকের কিছু গোয়ালঘরে, কিছু মাচার নিচে এবং কিছু হাওরে নামার সিঁড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বাড়ির পাশে হাওরের ঢেউ থেকে রক্ষার জন্যও এসব ব্লক ব্যবহার করেছেন। পর্যায়ক্রমে ব্লকগুলো ফেরত আনা হচ্ছে।’
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান হারুন বলেন, ‘বেশির ভাগ ব্লক ফেরত দিয়েছেন বাণিহাড়ি গ্রামের লোকজন। পাউবোর অভিযোগের পর আমরা ব্লকগুলো উদ্ধারে কাজ করেছি। তবে কারা ব্লক নিয়ে গিয়েছিল এবং কারা ফেরত দিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’
গাগলাজুর-বড়ান্তর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল মিয়া বলেন, ‘বাণিহাড়ি গ্রামের লোকজন বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়ার পর যার কাছে যে ব্লক ছিল, তা ফেরত দিচ্ছেন। তবে গ্রামের কালাম মিয়ার বাড়িতে এখনো প্রায় ২০০টি ব্লক রয়েছে। তাকে ফেরত দেয়ার জন্য বলা হলেও তিনি এখনো তা ফেরত দেননি।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফসল রক্ষা বাঁধের সুরক্ষায় ব্যবহৃত এসব ব্লক তুলে নেয়ার ফলে বাঁধের ওই অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বর্ষা ও হাওরের ঢেউয়ের সময় বাঁধের মাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাউবো জানিয়েছে, চিয়াডুবি ফসল রক্ষা বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের ব্লক উদ্ধারের কাজ পর্যায়ক্রমে চলছে। তবে সরকারি সম্পদ নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।



