বগুড়ার শেরপুরে ঘরের মেঝে থেকে নিলুফা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা।
সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার শাহ-বন্দেগী ইউনিয়নের দড়িমুকুন্দ উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সূত্রে জানা গেছে, নিহত নিলুফার স্বামী এখলাস আলী ট্রাকচালকের হেলপার হিসেবে কর্মরত। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না এবং গত তিন দিন ধরে গাড়ির কাজে বাইরে রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিলুফা তার দুই বছরের সন্তানকে নিয়ে শ্বশুর মঞ্জু (৬৫), শাশুড়ি রত্না বেগম ও দেবর মোস্তাকিনের সাথে একই বাড়িতে বসবাস করতেন।
স্থানীয়রা জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি থেকে কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা সেখানে ছুটে যান। তারা দেখতে পান ঘরের মেঝেতে কাপড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় নিলুফার লাশ পড়ে আছে, মাথার পাশে একটি মোমবাতি জ্বলছিল। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশ আসার আগেই নিহতের শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবর বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এমনকি নিলুফার দুই বছরের সন্তানকেও তারা সাথে নিয়ে গেছেন। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম জানান, লাশের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে গলায় ফাঁসের দাগ রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে লাশ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতির বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।



