সিলেট বিভাগজুড়ে আগস্টে সড়ক-মহাসড়কে ৩৫টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১২০ জন। নিহতের এই সংখ্যা গতমাসের চেয়ে শতকরা ৪০ ভাগ বেশি। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর সিলেটের মাসিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্ট মাসে সিলেট জেলায় ১৭টি দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ ২৭ জন নিহত হয়েছেন। হবিগঞ্জ জেলায় নয়টি দুর্ঘটনায় ১২ জন, সুনামগঞ্জ জেলায় পাঁচটি দুর্ঘটনায় চারজন ও মৌলভীবাজার জেলায় চারটি দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১১ জন ছিলেন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী। এছাড়া সিএনজি ও টমটম আরোহী নিহত হয়েছেন নয়জন।
আগস্টে ১২টি মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় সর্বোচ্চ ২৭ জন নিহত হন এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি উল্টে যাওয়ার কারণে পাঁচজন মারা যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ জানাতে গিয়ে বলা হয়, তদন্ত কমিটি ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আগস্ট মাসে দুর্ঘটনার পেছনে মূল কারণগুলো ছিল বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিং। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস ও মালবাহী ট্রাকগুলোর অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা বেশি ঘটেছে।
এছাড়াও মহাসড়কে নিষিদ্ধ বা ধীরগতির সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত টমটম চলাচলের কারণে বড় যানবাহনের সাথে দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে সড়কের বেহাল দশাকেও দায়ী করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
এতে বলা হয়, সিলেটের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে বড় বড় গর্ত বা খানাখন্দের কারণে চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন।
হেলমেটহীন মোটরসাইকেল চালনায় চালকদের ট্রাফিক নিয়ম না মানা এবং হেলমেট ব্যবহার না করার কারণে মৃত্যুর হার অনেক বেশি ছিল বলে নিসচার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এতে বলা হয়, ভয়াবহ দুর্ঘটনাগুলোর পর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
৭ আগস্ট ওসমানীনগরে ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে আট-নয়জন নিহতের ঘটনার পর সিলেটের জেলা প্রশাসন দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
দুর্ঘটনাকবলিত বাস, তেলবাহী লরি ও অন্যান্য যানবাহনগুলোকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে এবং হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে চালকদের অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযানের বিষয় উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। বলা হয়, মহাসড়কে সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ নজরদারি ও অভিযান জোরদার করেছে।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে স্থানীয় ট্রাফিক বিভাগ চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার কথাও জানিয়েছে।



