তিস্তায় পানি বৃদ্ধি, বিপদসীমার নিচে প্রবাহ উদ্বেগে তিস্তাপাড়

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যারাজের সব জলকপাট খুলে অতিরিক্ত পানি নিরাপদে প্রবাহিত করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

Location :

Dimla
উজানের ঢলে তিস্তায় বাড়ছে পানির চাপ
উজানের ঢলে তিস্তায় বাড়ছে পানির চাপ |নয়া দিগন্ত

মো: রেজোয়ান ইসলাম, ডিমলা (নীলফামারী)

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাসের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নদীর পানি বিপদসীমার নিচে নেমে এসেছে।

শনিবার (২০ জুন) সকাল ৬টায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির সমতল রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১০ মিটার, যা বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটারের মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারাজের সব ৪৪টি জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে। উজান থেকে হঠাৎ পানির প্রবাহ বৃদ্ধি এর প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পাউবো কর্মকর্তারা। চরাঞ্চলের কৃষকরা নতুন করে বন্যা ও ফসলহানির আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের টাপুরচর এলাকার কৃষক হযরত আলী বলেন, ‘তিস্তার তলদেশ পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। সামান্য পানি বাড়লেই চরে ঢুকে পড়ে। বাদাম, ভুট্টা ও শাকসবজির এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। পানি আর একটু বাড়লে সব তলিয়ে যাবে।’

গতকাল শুক্রবার দুপুরে ডালিয়া ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কারিগরি ও প্রশাসনিক কাজ এগিয়ে চলছে। বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের পর প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে এবং নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কিন্তু আশ্বাসের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পানি বিপদসীমার এত কাছে চলে আসায় তিস্তাপাড়ের মানুষের মধ্যে নতুন করে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যারাজের সব জলকপাট খুলে অতিরিক্ত পানি নিরাপদে প্রবাহিত করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

স্থানীয়রা বলছেন, অভিন্ন নদী হওয়ায় উজানের আকস্মিক পানি ছাড়ার প্রভাব প্রতি বছরই তিস্তা অববাহিকার মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে। আগাম সতর্কবার্তার অভাবে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। তাই তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে কার্যকর তথ্য আদান–প্রদান ও সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।