মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

সরকারি ও বিরোধী দল মিলে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে চাই

‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যারা সরকারি দল তারা এই দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আমরা কাজ করছি, তেমনি বিরোধী দলও সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে- আমি বলব। তারাও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য আমাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করছে।’

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান |নয়া দিগন্ত

সরকারি দল ও বিরোধীদল মিলে গণতন্ত্রকে যেমন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই, ঠিক তেমনি জুলাই সনদকে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর মহানগরীর ৩৬ জুলাই চত্বরে শহীদ দিবসের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।

এসময় তার সাথে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, মহিলা এমপি রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, সিটি প্রশাসক মাহফুজু উন নবী ডনসহ বিভাগীয় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

azm-khan-rangpur

মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই গতকালকে আমাদের সরকারি দলের সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য শুনেছেন। পাশাপাশি বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য শুনেছেন। আমরা সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলেই গণতন্ত্রকে যেমনি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই, তেমনি জুলাই সনদকে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে চাই। এখন বিরোধী দল মাঝেমধ্যে যে মেঠো বক্তৃতা করেন, সেটা তো তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য। আমরা কিন্তু সংসদে সেভাবেই কথা বলি এবং সংসদকে কার্যকর করবার জন্য এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবার জন্য আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘এই যে সংসদটা, এই সংসে যেমন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যারা সরকারি দল তারা এই দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আমরা কাজ করছি, তেমনি বিরোধী দলও সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে- আমি বলব। তারাও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য আমাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করছে।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘জুলাই আমাদের চেতনা। জুলাইয়ের মধ্য দিয়েই এই আবু সাইদের আত্মত্যাগ, এই ওয়াসিম আকরামসহ ১৪ শ’ অকুতোভয় লড়াকু সৈনিকের, লড়াকু যোদ্ধার, লড়াকু সংগ্রামীর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আমাদের সারা জাতি যেভাবে এই গণঅভ্যুত্থানে শরিক হয়েছিল, তাতে পালিয়েছিল ফ্যাসিবাদ। আর ফ্যাসিবাদের পলায়নের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে আমরা পুনরুদ্ধার করতে পেরেছি, করছি। তেমনি প্রত্যেকটা জুলাইয়ের যোদ্ধাকে সম্মান জানিয়ে, প্রত্যেকটা শহীদকে সম্মান জানিয়ে আমরা কাজ করছি। যাতে করে এই বাংলাদেশ এই জুলাই শহীদদের স্মরণ করে আমরা একটি চমৎকার, একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে।’

জুলাই চত্বরে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও আরপিডিএ, সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, সিটি প্রশাসনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে প্রস্তাবিত শহীদ আবু সাঈদ মনুমেন্টের অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক প্রাঙ্গনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

ভিসি প্রফেসর এম শওকাত আলীর সভাপতিত্বে এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনসহ শহীদ পরিবারের সদস্যরা এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার প্রমুখ।