বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উত্তরাঞ্চলের দুই লাখ ২৯ হাজার ৯৩৩ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ঋণের আসল ও সুদ মওকুফ করা হয়েছে। এজন্য মোট ২২৫ কোটি ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) জনসংযোগ কর্মকর্তা ইফতেখার জাহিদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, দেশের প্রথম বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংক হিসেবে রাকাব সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যেই এ ঋণ মওকুফ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি বা মন্দ ঋণ হিসেবে থাকা এসব ঋণ পরিশোধে অক্ষম ছিলেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি কৃষকের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল ঋণ এবং ওই ঋণের বিপরীতে বকেয়া সমুদয় সুদ মওকুফ করা হয়েছে। তবে ১০ হাজার টাকার বেশি মূল ঋণ এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়নি।
রাকাব সূত্র জানায়, রংপুর বিভাগের আট জেলার এক লাখ ৭৯ হাজার ২৭৮ জন কৃষকের ১৭৮ কোটি ৯২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা এবং রাজশাহী বিভাগের আট জেলার ৫০ হাজার ৬৩৭ জন কৃষকের ৪৬ কোটি ৮১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার দুই লাখ ২৯ হাজার ৯৩৩ জন কৃষকের ২২৫ কোটি ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে সরকার।
ইফতেখার জাহিদ জানান, কৃষকদের বকেয়া ঋণের অর্থ সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে রাকাবকে দেয়া হয়েছে। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল ঋণ এবং বকেয়া সুদ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিনের ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হওয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা নতুন উদ্যমে কৃষি উৎপাদনে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আর্থিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং উত্তরাঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশা করছেন।
এদিকে ঋণ মওকুফ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য রাকাবের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। একইসাথে কৃষিবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ভবিষ্যতেও কৃষকদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ব্যাংকটি।
জানা গেছে, রাকাবের পাশাপাশি অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকও ঋণগ্রস্ত কৃষকদের বকেয়া ঋণ ও সুদ মওকুফের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে শুরু করবে।



