সিলেট বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক থাকলেও গত ২৪ ঘণ্টায় হাম বা হামের উপসর্গে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে একই সময়ে নতুন করে ৪৭ জন সন্দেহভাজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে বর্তমানে বিভাগের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৯ জনে।
শনিবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ল্যাব পরীক্ষায় মোট ৫৯১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ৩০৭ জন, সিলেটে ১৯৬ জন, হবিগঞ্জে ৬১ জন (দু’জন রুবেলা) ও মৌলভীবাজারে ২৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো ল্যাব কনফার্ম হাম রোগী শনাক্ত হয়নি।
এদিকে, হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ১০৮ জন (অপরিবর্তিত)। মৃতদের মধ্যে একজন ২২ বছর বয়সী নার্স রয়েছেন এবং বাকি ১০৭ জন শিশু। এদের মধ্যে মাত্র চারজনের শরীরে পরীক্ষাগারে হাম নিশ্চিত হয়েছিল, বাকিদের মৃত্যু হয়েছে হাম উপসর্গে।
জেলাভিত্তিক হিসেবে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৪৮ জন, সিলেটে ৩৬ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন ও হবিগঞ্জে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ৪৭ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৭ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে তিনজন ও সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে দু’জন ভর্তি রয়েছে।
বর্তমানে চিকিৎসাধীন ২২৯ জনের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৭৯ জন, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৭২ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩০ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৬ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আটজন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে তিনজন, সিলেট লায়ন্স হাসপাতালে তিনজন, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে দু’জন ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শিশুদের সময়মতো টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে র্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।



