বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে ১০৫ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত

নদীভাঙনে পটুয়াখালীর পশ্চিম চর কাজল প্রাথমিক বিদ্যালয় বিলীনের ঝুঁকিতে; ৬ পদের বিপরীতে প্রধান শিক্ষকের পদসহ ৪ পদ খালি রয়েছে।

হারুন অর রশিদ, গলাচিপা (পটুয়াখালী)

Location :

Galachipa
গলাচিপা উপজেলার পশ্চিম চর কাজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
গলাচিপা উপজেলার পশ্চিম চর কাজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় |নয়া দিগন্ত

নদীভাঙনের ফলে বিদ্যালয় ভবন থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে এসে ঠেকেছে বুড়াগৌরাঙ্গ নদী। নদীর তীর ভাঙন অব্যাহত থাকলে বিলীন হওয়ার হুমকিতে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের ১৮৩ নং পশ্চিম চর কাজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি। অচিরেই ভাঙন-রোধে ব্লক দেয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা। এছাড়া বিদ্যালয়টিতে ৬টি পদের বিপরীতে প্রধান শিক্ষকের পদসহ ৪টি পদ খালি রয়েছে।

জানা গেছে, পশ্চিম চর কাজল বেড়িবাঁধ-সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় আবু জাফরের দান করা ৪০ শতাংশ জমিতে ১৯৯৫ সালে তিনি নিজেই পশ্চিম চর কাজল প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে প্রতিষ্ঠা করেন। রেজিস্টার্ডভুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হয়। বর্তমানে দুই শিফটের বিদ্যালয়টিতে প্রাক-প্রাথমিকসহ ছয়টি শ্রেণিতে মোট ১০৫ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ছয় শিক্ষকের পদ থাকলেও প্রধান শিক্ষকের পদসহ চারটি পদই খালি রয়েছে।

বুড়াগৌরাঙ্গ নদী ভাঙতে ভাঙতে বর্তমানে বিদ্যালয়টি থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে এসে ঠেকেছে। নদীর এমন ভাঙন অব্যাহত থাকলে খুব শিগগিরই বিদ্যালয় ভবনটি নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। এতে ভবিষ্যত লেখাপড়া নিয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে এখানের শতাধিক শিক্ষার্থী।

স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙনের ফলে পশ্চিম চর কাজল মৌজা সম্পূর্ণ ও বড় চর কাজলের আংশিক বিলীন হয়ে গেছে। এতে একটি মাদরাসা, চারটি মসজিদ, একটি কমিউনিটি বিদ্যালয়ের ভবনসহ শতাধিক বাড়ি নদীর গর্ভে চলে গেছে। এরকম আরো মসজিদ, মাদরাসাসহ শত বাড়ি-ঘর নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিদ্যালয় জমিদাতা সদস্য মো: রিয়াজ হাওলাদার বলেন, আমার ভাই আবু জাফর হাওলাদারের দান করা জমিতে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লাভ পায়। প্রথম ৪০ শতাংশ জমি দান করেছিল, সেখানে একটি কমিউনিটি সেন্টার নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু ৩০ শতাংশ জমিসহ বিল্ডিংটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নতুন করে আবারো ৪০ শতাংশ জমি দান করা হয়েছে। বর্তমান বিদ্যালয় ভবনটিও নদীভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে।

এদিকে দ্বন্দ্বের কারণে বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় মো: জাফর সিকদার, হাবিব সিকদারসহ একাধিক অভিভাবক বলেন, এই বিদ্যালয়ে আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করছে। নদীভাঙনের ফলে বিদ্যালয়টির ভবন হুমকিতে রয়েছে। অতি শিগগিরই নদীভাঙন-রোধে কার্যকরী ব্যবস্থাগ্রহণের দাবি জানাই

বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাশিদা বেগম বলেন, আগে নদী অনেক দূরে ছিল। কিন্তু নদীভাঙনের ফলে দিনে দিনে খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। খুব শিগগিরিই কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বিদ্যালয়ের ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে ছোট বাচ্চাদের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

চরকাজল ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: রিকোজ আহম্মেদ বলেন, আগের কমিউনিটি বিদ্যালয়ের ভবনটি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে বর্তমান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটিও নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একাধিকবার এ বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অচিরেই ব্লক দেয়া না হলে নদীভাঙন রোধ সম্ভব না।

গলাচিপা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: গোলাম সগীর জানান, নদীর মাঝে চর জেগে যাওয়ায় নদী পূর্বের তুলনায় কম ভাঙবে। তবে নতুন শিক্ষক নিয়োগ হলে খালি পদগুলোতে শিক্ষক দেয়া হবে। বিদ্যালয় কমিটি দ্বিতীয় ধাপে গঠন করা হবে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো: ইজাজুল হক বলেন, ঝুঁকিতে থাকা বিদ্যালয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই।