জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করে দেশ পরিচালনা বিএনপির সুস্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতারণা। জনগণের মতামত ও গণরায়কে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের রায়কে পাশ কাটিয়ে কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার দেশ পরিচালনা করলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
তাই জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়, রাষ্ট্রীয় সংস্কার, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামীকাল শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
লংমার্চের সমাপনী কর্মসূচি হিসেবে বিকেলে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মসূচি সফল করতে তিনি দেশবাসী ও চট্টগ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত কার্যালয়স্থ বিআইএ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহছানুল্লাহ ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মুহাম্মদ জাফর সাদেক, অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি মাওলানা এমদাদ উল্লাহ সোহাইল, এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরীর আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, জাগপা চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি আবু মোজাফফর মো. আনাস, এলডিপি চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি সৈয়দ গিয়াসউদ্দিন আলম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি আলাউদ্দিন আলী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোবায়ের মাহমুদ, এবি পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরীর যুগ্ম সদস্য সচিব যায়েদ হাসান, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের সংকট, সারের সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকীর্ণ দলীয়করণের কারণে জনগণ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছে, তারও পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। এসব সংকট নিরসন এবং জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্য এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, জুলাই গণহত্যার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সঙ্কট অবিলম্বে নিরসন করতে হবে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সঙ্কটে শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের জীবন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পর্যাপ্ত ও সুলভ মূল্যে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, চাল, ডাল, তেল, সবজি, মাছ, মাংসসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজার সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ করে নিত্যপণ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানিয়ে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করে যোগ্যতা, দক্ষতা ও ন্যায়নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লংমার্চ ও সমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সমাবেশস্থলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আগত মানুষের নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক ও দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের প্রতি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।



