আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে (গাকৃবি) উচ্চশিক্ষার একটি ‘গ্লোবাল হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘বিদেশী শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে গাকৃবিতে বৈশ্বিক চিন্তাধারা ও পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে ‘গ্রিন ক্যাম্পাস, গ্লোবাল মাইন্ডস: ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস শেপিং দ্য ফিউচার অব জি এ ইউ’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইকিউএসি সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া ও নেপাল থেকে আসা বিএস, এমএস ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
আইকিউএসি পরিচালক প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পাশাপাশি গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: নূরুল করিম ভূঁইয়া বক্তব্য দেন।
ভিসি বলেন, ‘আমরা বিদেশী শিক্ষার্থীদের নিয়ে গ্লোবাল মাইন্ডস গড়ে তুলতে চাই। তবে তার আগে গাকৃবিকে বিদেশী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য একটি গ্লোবাল হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদে, স্বাচ্ছন্দ্যে ও মর্যাদার সাথে পড়াশোনা করতে পারেন এবং নিজেদের সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে পারেন—এমন পরিবেশ তৈরির কথাও জানান তিনি।
‘সবুজ গাকৃবি: শান্ত ও দূষণমুক্ত নির্মল ক্যাম্পাস’ শীর্ষক আলোচনায় জেলা প্রশাসক মো: নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে কাজ করে গাজীপুরকে আরও সবুজ, বসবাসযোগ্য ও দূষণমুক্ত করতে চায়।’
তিনি পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথা তুলে ধরে পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে গাকৃবির অগ্রযাত্রা ও অর্জন নিয়ে ‘ডিসকভারিং জিএইউ’ শীর্ষক ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। পরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিচয়পর্ব, শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান এবং বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা গাকৃবিতে তাদের ক্যাম্পাস জীবনের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের মতামত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেয়।



