দৈনিক নয়া দিগন্তে অসহায় প্রবীণ আব্দুল বারীর জীবনসংগ্রাম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর এবার তার পাশে দাঁড়িয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র তার খোঁজখবর নিয়ে তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে তার স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের কবিখালী মসজিদপাড়া এলাকার একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে একাকী বসবাস করেন আব্দুল বারী। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও জীবিকার তাগিদে এখনো সাইকেলে ঘুরে ঘুরে হাড়ি-পাতিল মেরামতের কাজসহ ছোটখাটো শ্রমের কাজ করেন তিনি। সেই আয় দিয়েই চলে তার জীবন।
গত ২৮ আগস্ট দৈনিক নয়া দিগন্তে, ক্ষুধার কাছে হার মানেননি ১১৬ বছরের আব্দুল বারী, শিরোনামে তার জীবনসংগ্রাম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে আব্দুল বারী নিজের বয়স ১১৬ বছর দাবি করলেও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী তার জন্মতারিখ ২০ এপ্রিল ১৯২৭ উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, পরবর্তী সময়ে তার অসহায় জীবনযাপনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সাংবাদিকরা তার খোঁজ নিতে গিয়ে বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্রকে অবহিত করেন।
বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে শুকনা খাদ্যসামগ্রী নিয়ে আব্দুল বারীর বাড়িতে যান তিনি। এ সময় সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাহিদা ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা আব্দুল বারীর সাথে কথা বলেন এবং তার বসবাসের স্থান ও সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ১০ কেজি চাল, এক কেজি ডালসহ আট ধরনের শুকনা খাদ্যসামগ্রী দেয়া হয়।
খাদ্যসহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রবীণ আব্দুল বারী। তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে অসুস্থ থাকায় ঠিকমতো খাবারও খেতে পারছিলেন না। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে তিনি একাই বসবাস করছেন। তার দুই মেয়ে থাকলেও তারা নিয়মিত খোঁজখবর নেন না বলে তিনি দাবি করেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র বলেন, আব্দুল বারী নিজের বয়স ১১৬ বছর দাবি করলেও তার জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মসাল ১৯২১ উল্লেখ রয়েছে। সে অনুযায়ী তার বয়স প্রায় ১০৫ বছর। বয়সের তথ্য নিয়ে ভিন্নতা থাকলেও তার অসহায় জীবনযাপন ও বসবাসের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে।
তিনি বলেন, আব্দুল বারীর নিজস্ব কোনো জমি নেই। তবে তিনি যে জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন, ওই জমির মালিকের সম্মতি ও প্রয়োজনীয় লিখিত ব্যবস্থা পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে সরকারি প্রকল্পের আওতায় তার জন্য বসবাসের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।
ইউএনও আরো বলেন, আপাতত উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে তাকে খাদ্যসহায়তা দেয়া হয়েছে। তিনি সরকারি বয়স্ক ভাতাও পান। তবে একজন অসহায় প্রবীণের জন্য এই সহায়তা যথেষ্ট নয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী তার পাশে থাকার চেষ্টা করা হবে।



