লোহাগড়ায় লাশের সাথে অনৈতিক কাজের অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্স চালককে গণধোলাই

নড়াইলের লোহাগড়ায় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা এক নারীর লাশের সাথে অনৈতিক কাজ করার অভিযোগ উঠেছে এক অ্যাম্বুলেন্স চালকের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত সাগর শেখ (২২)
অভিযুক্ত সাগর শেখ (২২) |নয়া দিগন্ত

লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা

নড়াইলের লোহাগড়ায় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা এক নারীর লাশের সাথে অনৈতিক কাজ করার অভিযোগ উঠেছে এক অ্যাম্বুলেন্স চালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাগর শেখ (২২) নামের ওই চালককে স্থানীয় লোকজন গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে লোহাগড়া থানা চত্বরে রাখা একটি অ্যাম্বুলেন্সে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্ত সাগর শেখ পৌর শহরের লক্ষ্মীপাশা পাম্প এলাকার মৃত কামরুল শেখের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার লোহাগড়া ইউনিয়নের ছাগলছেড়া গ্রামের সামিয়া আক্তার লামিয়া (১৮) নামের এক গৃহবধূ পারিবারিক কলহের জেরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে (মামলা নম্বর-৩৮, তারিখ: ২৯/৮/২৬)।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, রাতে লাশটি থানা চত্বরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে ছিল। রাত আনুমানিক ২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্স চালক সাগর শেখ ওই অ্যাম্বুলেন্সে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি লাশের সঙ্গে অনৈতিক কাজ করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। নিহতের এক স্বজন বিষয়টি দেখতে পান। পরে নিহতের মা লাভলী বেগম সেখানে গিয়ে সাগরকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

নিহতের মা লাভলী বেগম বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স চালক সাগর আমার মেয়ের শরীরের কাপড় খুলে অনৈতিক কাজ করার চেষ্টা করছিলেন। আমি বিষয়টি দেখে ফেলি।’

তিনি আরো বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সের জানালা গামছা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল, যাতে ভেতরের কিছু দেখা না যায়। আমার মেয়ে মাদরাসায় পড়ত। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এদিকে এ ঘটনার একটি ভিডিও রোববার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে স্থানীয় লোকজন সাগর শেখকে আটক করে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ইনস্পেক্টর (তদন্ত) অজিত রায় গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা না বলে এড়িয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।