শাহরাস্তিতে বিউটিশিয়ানের লাশ উদ্ধার, রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তে পুলিশ

পাঁচ দিন আগে রাসেল চৌধুরীর পরিচয়ে দোয়াভাঙ্গা এলাকার ওই বাসাটি ভাড়া নেয়া হয়। সোমবার সকাল ৮টার দিকে নিহতের ছোট সন্তানদের কান্নাকাটি শুনে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।

Location :

Shahrasti
নিহত বিউটিশিয়ান নাজমুন নাহার স্বপ্না
নিহত বিউটিশিয়ান নাজমুন নাহার স্বপ্না |নয়া দিগন্ত

শাহরাস্তি (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌর এলাকার দোয়াভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে নাজমুন নাহার স্বপ্না (৩৩) নামে এক বিউটিশিয়ানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে নিউ লাইফ হাসপাতালের পঞ্চম তলার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত নাজমুন নাহার স্বপ্না কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাংলাইশ গ্রামের নজরুল ইসলাম ও ফিরোজা বেগমের মেয়ে। তিনি সর্বশেষ শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলেন এবং পেশায় একজন বিউটিশিয়ান ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি একাধিকবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রথম সংসারে তার দুই মেয়েসন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়েসন্তান জন্ম নেয়। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। একপর্যায়ে তিনি আদালতের মাধ্যমে দ্বিতীয় স্বামীকে তালাক দেন। পরে একই এলাকার কৃষ্ণপুর গ্রামের প্রবাসী চৌধুরী রাসেল নামে এক ব্যক্তির সাথে তার বিবাহ হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও বাসা মালিকের পক্ষে মেহেদী হাসান জানান, গত পাঁচ দিন আগে রাসেল চৌধুরীর পরিচয়ে দোয়াভাঙ্গা এলাকার ওই বাসাটি ভাড়া নেয়া হয়। সোমবার সকাল ৮টার দিকে নিহতের ছোট সন্তানদের কান্নাকাটি শুনে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে বাসায় গিয়ে নাজমুন নাহার স্বপ্নাকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়া হয়।

খবর পেয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার এসআই শমশেদ হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এটি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা তৃতীয় পক্ষের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি-না, সেটিও গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।