মাদারীপুরের শিবচরের ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল রেস করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মো: সাকিবুল হাসান (১৯) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক্সপ্রেসওয়ের শিবচর হাইওয়ে থানা সংলগ্ন বাচামারা এলাকার ঢাকাগামী লেনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাকিবুল মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া মৌহালী এলাকার মো: তরিকুল ইসলামের ছেলে।
জানা গেছে, মানিকগঞ্জ থেকে সকাল ১০টার দিকে বন্ধুদের নিয়ে ১১টি মোটরসাইকেলসহ ফরিদপুর হয়ে ভাঙ্গা চৌরাস্তা এলাকায় যান সাকিবুল। এ সময় তাদের সাথে ফরিদপুর থেকে আরো নয়জন বাইকার যুক্ত হন। ভাঙ্গা থেকে পদ্মাসেতু পর্যন্ত মোটরসাইকেল রেস করার কথা ছিল তাদের। শিবচরের আড়িয়াল খাঁ সেতু পার হয়ে দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় সাকিবুলের মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় তার বন্ধুরা রক্তাক্ত অবস্থায় সাকিবুলকে রেখেই দ্রুত পালিয়ে যান। খবর পেয়ে শিবচর হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
নিহত সাকিবুলের বান্ধবী আরোহী আক্তার বলেন, ‘আমরা মানিকগঞ্জ থেকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট হয়ে ফরিদপুর আসি। সেখান থেকে আরো নয়জন যুক্ত হয় আমাদের সাথে। আমরা ভাঙ্গা এলে আমিসহ আরো এক বান্ধবীকে রেখে ওরা মোটরসাইকেল রেসিংয়ে যায়। পরে খবর পাই সাকিবুল দুর্ঘটনায় পড়েছে। আমি ভাঙ্গা থেকে ঘটনাস্থলে এসে দেখি সাকিবুল মারা গেছেন। রেসিংয়ে আরো যারা ছিলেন তারা কেউই এগিয়ে আসেননি। দুর্ঘটনা দেখেই চলে গেছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘সাকিবুল প্রায়ই মোটরসাইকেল রেস করেন। এভাবেই ফেসবুকে অন্যদের সাথে পরিচয়। একসাথে রেসিং করতে গিয়ে সাকিবুল পড়ে গিয়ে মারা যান। তার বন্ধুরা তাকে রক্তাক্ত দেখেই পালিয়ে গেছেন।’
শিবচর হাইওয়ে থানার এসআই মো: মামুন বলেন, ‘দুপুরের পর দুর্ঘটনাটি ঘটে। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ছেলেটি মারা গেছেন। ওখানে নিহতের পরিচিত কাউকে পাইনি। শুনেছি আরো বন্ধুদের সাথে দ্রুতগতিতে বাইক চালাচ্ছিলেন। বন্ধুরা দূর্ঘটনা দেখে ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। নিহতের লাশ হাইওয়ে থানায় রয়েছে। পরিবারের লোকজন এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



