চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের সড়কে কনটেইনারবাহী ট্রাকের চাপায় মোহাম্মদ হোসেন (৩৪) নামে এক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সিএনজি অটোরিকশার চালক সাইফুল ইসলাম (৩৫) আহত হয়েছেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রবেশমুখের সিপি মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোহাম্মদ হোসেন ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর চান্দিয়া ইউনিয়নের সওদাগর হাট এলাকার এনামুল হকের ছেলে। তিনি জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে ঠিকাদারি ব্যবসার পাশাপাশি স্কেভেটর ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, মোহাম্মদ হোসেন সিএনজি অটোরিকশা থেকে সড়কের ডান পাশে নামেন। ভাড়া পরিশোধ করার সময় পেছন থেকে একটি কনটেইনারবাহী ট্রাক সিএনজিটিকে চাপা দেয়। এতে মোহাম্মদ হোসেন গুরুতর আহত হন এবং সিএনজিচালক সাইফুল ইসলাম সামান্য আহত হন।
আহত মোহাম্মদ হোসেনকে প্রথমে মিরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মিরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা: নুর নবী রাহাত জানান, আহত রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল ছিল। আমরা তাকে চমেক হাসপাতালে রেফার্ড করছি।
সিএনজিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রবেশমুখের সিপি মোড়ে যাত্রী নামানোর পর ভাড়া নিয়ে গাড়ি স্টার্ট করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এ সময় পেছন থেকে একটি কনটেইনারবাহী ট্রাক আমার গাড়িকে চাপা দেয়। এতে আমি আহত হই এবং যাত্রী মোহাম্মদ হোসেন গুরুতর আহত হন।’
জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্পজোন পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো: লুৎফর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মোহাম্মদ হোসেন গুরুতর আহত হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সিএনজিচালক সাইফুল ইসলাম সামান্য আহত হয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, ঘটনাটি জোরারগঞ্জ থানাকে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত কনটেইনার ও চালক পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। কনটেইনার চালকের নাম শাহীন আলম (৩২) বলে জানা গেছে। তিনি বান্দরবানের লামা উপজেলার ছাগল খাইয়া মৌজার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শাহরাজ হোসেনের ছেলে।
সড়কটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পুলিশ পরিদর্শক লুৎফর রহমান বলেন, জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং অনেক তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। সড়কের বিভিন্ন বাঁকে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন দেখা যায় না। পাশাপাশি এক লেনের সড়কে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চলাচলও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
তিনি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, স্পিড ব্রেকার ও বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন দেখতে দিকনির্দেশক আয়না (কনভেক্স মিরর) স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।



