ময়মনসিংহে মাথাবিচ্ছিন্ন যুবকের লাশ উদ্ধার

দুর্গন্ধের উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রথমে বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পাওয়া যায়। পরে মাটি খুঁড়ে দেহ উদ্ধার করা হয়।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
নিহত সোহেল মিয়া
নিহত সোহেল মিয়া |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পরানগঞ্জে দুর্গন্ধের উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে মাটিচাপা অবস্থায় সোহেল মিয়া (২৬) নামে এক যুবকের মাথাবিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের অম্বিকাগঞ্জ কলেজ মাঠসংলগ্ন এলাকায় লাশটির সন্ধান পাওয়া যায়। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষে লাশটি মাটি থেকে তোলা হয়।

নিহত সোহেল পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া গ্রামের নূরুল ইসলাম ও জুলেখা বেগমের ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি গাছ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

স্বজনদের ভাষ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সোহেল বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। আত্মীয়-স্বজন সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। বুধবার সকালে তার বাবা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অম্বিকাগঞ্জ কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো: মাহবুবুল আলম জানান, ওই এলাকায় কলেজের নতুন অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণে বুধবার দুপুরে অম্বিকাগঞ্জ কলেজ মাঠে যান শিক্ষক-কর্মচারীরা। সেখানে গিয়ে তারা কলেজের সীমানা প্রাচীরের একটি অংশ ভাঙা এবং আশপাশে তীব্র দুর্গন্ধ টের পান।

দুর্গন্ধের উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে মাটির ওপর মানুষের একটি বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান তারা। পরে বিষয়টি কোতোয়ালি মডেল থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

পুলিশ প্রথমে বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে। এরপর ঘটনাস্থলে মাটি খনন শুরু করে একটি জোড়া গ্লাভস উদ্ধার করা হয়। পরে আরো কয়েক ফুট গভীর থেকে মাথাবিহীন একটি লাশ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা পোশাক ও অন্য আলামতের ভিত্তিতে লাশটি সোহেলের বলে শনাক্ত করেন।

নিহতের শ্বশুর আলাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, ১৬ জুলাই রাতে সোহেলের ভগ্নিপতি সেলিম মিয়া কাজের কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

তার দাবি, সোহেল ও সেলিম দীর্ঘদিন একসাথে গাছ কাটার কাজ করতেন। পারিশ্রমিক নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো। সেলিম ঠিকমতো টাকা না দিয়ে সোহেলকে মারধরও করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সোহেল ঢাকায় গিয়ে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। কয়েকদিন আগে বাড়ি ফেরার পর আবারো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ডেকে নেয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, সোহেলের খোঁজ জানতে চাইলে সেলিম কোনো সদুত্তর দেননি। এরই মধ্যে মঙ্গলবার থেকে তিনি এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া মাথাবিচ্ছিন্ন লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একটি পরিবার লাশটি তাদের সন্তান বলে দাবি করেছে। পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত করতে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে শনাক্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নিহতের ভগ্নিপতি বর্তমানে এলাকায় নেই। তার অবস্থান ও ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা, কি কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে লাশ মাটিচাপা দিয়েছে, তা উদ্ঘাটনে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’