টিউশন ফি পরিশোধ করেও ভিসা হয়নি, দক্ষিণ কোরিয়ার আদালতে ২৪৩ শিক্ষার্থী

‘শিক্ষার্থীদের পক্ষে সঠিক সময়ে আদালতে দাবি দাখিল করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা ২৪৩ জনের ক্লেইম জমা দিয়েছি। আদালতের প্রক্রিয়ার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে আমরা আশাবাদী এবং শিক্ষার্থীদের বৈধ পাওনা আদায়ে আইনগত সব পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
ক্লেইম ফাইলের পাঁচ সেট হার্ডকপি প্রস্তুত করছেন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম ও কোরিয়ান স্থানীয় আইনজীবীরা
ক্লেইম ফাইলের পাঁচ সেট হার্ডকপি প্রস্তুত করছেন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম ও কোরিয়ান স্থানীয় আইনজীবীরা |নয়া দিগন্ত

দক্ষিণ কোরিয়ার সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বিশাল অঙ্কের টিউশন ফি পরিশোধ করেও ভিসা না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশের ২৪৩ জন শিক্ষার্থী। এদের বড় একটি অংশের বাড়ি সিলেট বিভাগে।

ভিসা না পাওয়া বাংলাদেশী ২৪৩ জন শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে তাদের অর্থ ফেরতের দাবিতে দেশটির রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ক্লেইম দাখিল করা হয়েছে। কোরিয়ার দেউগু রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে বাংলাদেশী আইনজীবী আ্যডভোকেট সাইফুল ইসলাম ও স্থানীয় কোরিয়ান আইনজীবীর সমন্বয়ে এসব ক্লেইম দাখিল করা হয়।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নয়া দিগন্তের সাথে আলাপকালে আ্যডভোকেট সাইদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পান, সেজন্য কোরিয়ার রিহ্যাবিলিটেশন (পুনর্বাসন) কোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লেইম (দাবি) দাখিল করা হয়েছে। মোট ২৪৩ জন শিক্ষার্থীর পক্ষে এই আইনি লড়াই চালানো হচ্ছে।’

শিক্ষার্থীদের পাওনা আদায়ে উই কেয়ার এডুকেশন ও মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় গেছেন অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম। তিনি কোরিয়ান স্থানীয় এক আইনজীবীকে সাথে নিয়ে ২৮ আগস্ট দেউগু রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে এ দাবি দাখিল করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে প্রতারিত হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে ২২৫ জনের পক্ষে দেউলিয়া আদালতে অর্থ ফেরতের আবেদনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। সে অনুযায়ী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পাওয়ার অব অ্যাটর্নিসহ অন্যান্য নথি প্রস্তুত করা হয়। তবে গত ২৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেউলিয়া কার্যক্রমের বদলে পুনর্গঠন বা ‘রিহ্যাবিলিটেশন’ কার্যক্রমে যাওয়ার জন্য দেউগু রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে আবেদন করে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের যথেষ্ট সম্পদ রয়েছে এবং তা বিক্রি বা সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠন করা সম্ভব।

আদালত এই আবেদন গ্রহণ করায় আইনি কৌশলেও পরিবর্তন আসে। কোরিয়ান আইনজীবীর পরামর্শে দেউলিয়া আদালতের পরিবর্তে সরাসরি রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে দাবি জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত হতে ২৭ আগস্ট সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাসে যান আইনজীবী সাইফুল ইসলাম ও এডুকেশন কনসালটেন্সি ‘উইকেয়ার’-এর ম্যানেজার জাহিদ হাসান। তারা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে সার্বিক আইনি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। দূতাবাস থেকেও শিক্ষার্থীদের পক্ষে রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে ক্লেইম দাখিলের পরামর্শ দেয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে পূর্বপ্রস্তুতকৃত কাগজপত্র সংশোধন করে ২৮ আগস্ট ২২৫ জন ও নতুন করে আরো ১৮ জনসহ মোট ২৪৩ জন শিক্ষার্থীর পাওনা অর্থের দাবি রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে জমা দেয়া হয়। অনলাইনে ক্লেইম ফাইল করার পাশাপাশি আদালতের নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ সেট হার্ডকপিও জমা দেয়া হয়েছে।

আইনজীবীদের মতে, বিষয়টি এখন দক্ষিণ কোরিয়ার আদালতের নির্ধারিত রিহ্যাবিলিটেশন প্রক্রিয়ার অধীনে পরিচালিত হবে। আদালত দাখিল করা কাগজপত্র পর্যালোচনা করবেন এবং পরবর্তীতে শুনানির দিন ধার্য করবেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির ওপর একাধিক আর্থিক দায় ও বকেয়া ঋণ রয়েছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়াসহ অন্যান্য পাওনাদারদের দাবিও আদালতের বিবেচনায় থাকবে। ফলে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ফেরতের প্রক্রিয়ায় কিছু সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পক্ষে সঠিক সময়ে আদালতে দাবি দাখিল করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা ২৪৩ জনের ক্লেইম জমা দিয়েছি। আদালতের প্রক্রিয়ার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে আমরা আশাবাদী এবং শিক্ষার্থীদের বৈধ পাওনা আদায়ে আইনগত সব পদক্ষেপ নেয়া হবে। আদালতের প্রতিটি অগ্রগতির তথ্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জানানো হবে।’

একইসাথে প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।